Apan Desh | আপন দেশ

পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টারের জীর্ণদশা

রাজশাহী প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:১২, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:১৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিত্যক্ত সরকারি কোয়ার্টারের জীর্ণদশা

ছবি: আপন দেশ

রাজশাহী শহরে সরকারি বিভিন্ন দফতরের বহু কোয়ার্টার ও কলোনির বহুতল ভবন বহুদিন ধরে জীর্ণ দশা বিরাজ করছে। বছরের পর বছর এই ভবনগুলোর সংস্কার কাজ না করায় এগুলো এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। জানালা-দরজা ভাঙা, চারপাশে আগাছা দিয়ে ব্লিডিংগুলো চেনা যাচ্ছে না। মনে হবে এগুলো কোন ধ্বংসস্তুপ। 

সরকারি বাসা হলেও বেশি ভাড়া বা অন্যান্য সুবিধার অভাবে এসব ভবনে থাকছেন না কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ অযত্নে আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব ভবনগুলো সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে গণপূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে। কিন্তু কবে তা আলোর মুখ দেখবে তা নিয়ে শষ্কা বিরাজ করছে।  

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সরে জমিন রাজশাহী নগরীর পরিত্যাক্ত সরকারি কোয়ার্টার ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। 

এসব কোয়ার্টারে গাছগাছালিতে আচ্ছন্ন, মনে হবে কোন মুভিতে দেখা পরিত্যক্ত ভবন। কিন্তু এগুলো মূলত, একসময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে ভবনের অনেকগুলো এখন পরিত্যক্ত। কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। জানালা-দরজা ভাঙা, চারপাশে আগাছার দখল। 

তবে রাজশাহী নগরীর টিবি-পুকুর এলাকায় এসব পরিত্যাক্ত ভবন ফাঁকা নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা ভবনের কিছু অংশে এখনও বসবাস করছেন অনেক পরিবার। জীবনের ঝুঁকি জেনেও বিকল্প আবাসনের অভাবে আর খরচ কমাতে সেখানেই বসবাস করছেন তারা। 

কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই  এ ভবনগুলোতে থাকতে হচ্ছে। কারণ আয়-রোজগার বেশি নেই। তাই আধুনিক ভবনের বিলাসিতা জীবন আমাদের নেই। 

আরও পড়ুন<<>>বিশ হাজার তাল বীজ রোপণ উৎসব শুরু

আবার তুলনামূলক ভালো অবস্থার কিছু সরকারি ভবন দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এসব সরকারি বাসার ভাড়া তুলনামূলক বেশি, অবস্থানগত অসুবিধার কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে উঠতে আগ্রহ দেখান না। যার কারণে পড়ে থেকে এসব ভবন নষ্ট হচ্ছে। সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোটি কোটি টাকার এসব সম্পদ।

ইাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব ভবন সংস্কারের উপযোগী সেগুলো মেরামত করা হবে। আর যেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী, সেগুলো অপসারণ করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে। আমরা ইতিমধ্যে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি বলে জানান তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, রাজশাহী নগরীর ‘হেলেনাবাদ এবং মহিষবাথান দুইটা কলোনির জন্য অলরেডি আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। রাজশাহীতে যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে তারা যেন ওখানে বসবাস করতে পারে, তারা যেন এ সুযোগ-সুবিধাটা পায়। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমরা প্রজেক্ট হাতে নেয়ার জন্য যা যা করণীয় তা আমাদের তরফ থেকে আমরা এগিয়ে রেখেছি। এখন আমরা যদি গ্রিন সিগন্যাল পাই, বা পরবর্তী ধাপে আমরা যাব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে নগর পরিকল্পনাবীদরা বলছেন, সরকারি ভবনগুলোয় সময়ের সঙ্গে সেবার মান ও মূল্যের সমঝোতা বজায় রাখলে বাড়বে সরকারি এ আবাসিক কলোনি ব্যবহার। সে সঙ্গে সরকারি কোষাগারে যুক্ত হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। তাই এ মূল্যবান সম্পদের সঠিক সংষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়