ছবি: আপন দেশ
অতি বৃষ্টি ও বন্যার অজুহাতে বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শাক-সবজি। সবজিভেদে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ৩০ টাকা এবং আঁটি প্রতি শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দাম বিক্রি করছেন সবজি ব্যবসায়ীরা। ফলে প্রতিকেজি শাক ২৫ থেকে ৩৫ এবং সবজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ভরা মৌসুমেও শাকসবজির এমন দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ।
উপজেলার কয়েকটি সবজি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ক্রেতারা বাজার মনিটরিংয়ের অভাবকে দুষছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা লাভের জন্য বাজারে সিন্ডিকেট করে সবজির দাম বাড়িয়েছে। আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতি বৃষ্টির কারনে সবজি পচে নষ্ট হওয়ায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে।
সরেজমিনে আদমদীঘির কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিকেজি আলু ৫০ থেকে ৬০, মান ও আকারভেদে বেগুন ১০০, টমেটো ৮০ থেকে ৯০, পটল ৩০ থেকে ৪০, করলা ৮০, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুর বৈ ৬০, বরবটি ৮০ টাকা, শসা ৪৫, কাকরুল ৮০, পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫, লাউ প্রতি পিস ৪০, কলার মোচা ২০, কলাগাছের মেরুদন্ড (অ্যাটা)প্রতি ফালি ১০ টাকা এবং পেঁপে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, বাজারে পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে লাউ-কুমড়ার। প্রতিপিস চাল কুমড়া বিক্রি হচ্ছে আকার ভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় এবং মিষ্টি কুমড়ার ফালি ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে, প্রতি হালি কলা বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। বাজারে ঝাজ বেড়েছে কাঁচামরিচের। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। আর প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। আর পাঁচ টাকা বৃদ্ধিতে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।
আরও পড়ুন<<>>ক্ষুদ্র পোল্ট্রি খামারিরা কৃষি ঋণের সুবিধা পাবেন: প্রতিমন্ত্রী
বাজার করতে আসা গৃহিনী কহিনূর বেগম বলেন, বাজারে প্রতিনিয়ত দাম বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের। সংসারের আয় বাড়ছে না। অন্যদিকে খরচ বাড়ছে হু-হু করে। আমরা যেন নিরুপায় হয়ে পরেছি। এভাবে সকল পণ্যের দাম বাড়লে সংসার চালাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের মত নির্দিষ্ট ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা কষ্টে দিন পার করছি। দেখার যেন নেই কেউ?
আদমদীঘির কাঁচা তরকারি ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বাজারে সব ধরনের তরকারীর দাম বেড়েছে। অনেক এলাকায় বন্যা হয়েছে। ফলে ফসল পানিতে ডুবে গেছে। এজন্য পাইকারী বাজারে আমদানী কমায় দাম বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারনে সবজি ক্ষেত তলিয়েছে। মাঠের বেশিরভাগ ফসলেরই ক্ষতি হয়েছে। মাঠে পানি জমে গাছ নষ্ট হওয়ায় বাজারে সব শাকসবজিরই দাম বৃদ্ধির দিকে।
মজনু নামের আরেক তরকারীর দোকানদার জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক পানি জমেছিল মাঠে। তীব্র রোদের পর কৃষকের বেশিরভাগ আবাদ নষ্ট হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত তলিয়ে গেছে। এজন্য কাংখিত মানের পণ্য পাচ্ছি না কৃষকদের কাছ থেকে। এছাড়াও আমদানী কম আর চাহিদা বেশি থাকায় বেড়েছে সকল নিত্যপণ্যের। অনেকেই অভিযোগ করছেন,জমিতেই ফসল পঁচে নষ্ট হচ্ছে।
সদরের জিনইর গ্রামের শাক বিক্রেতা ইউসুফ জানান, বেশি বৃষ্টি হলে ক্ষেতের মাটি নরম হয়ে শাক উঠে আসে। অতি বৃষ্টি বা অতি খরা শাক চাষের জন্য ক্ষতির কারন। অনেক শাক মাঠেই পঁচে গেছে। নতুন করে বীজ বপণ করলেও এক মাস সময় লাগবে। এজন্য শাকসবজির দাম বেড়েছে বাজারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিকেজি লালশাক ৪০, পুঁইশাক ৩০, কলমিশাক ২৫, খুরা শাক ৪০,পাটের শাক ৬০, নোনতা শাক ৩০ এবং কচুশাক ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে, প্রতি আঁটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে লাউ ও কুমড়ার ডগা।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































