ছবি: আপন দেশ
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের গোয়াইলপুরী এলাকায় এবার ঈদুল আজহার আনন্দ ছিল অনেকটাই ফিকে। সারাদেশে যখন কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বিতরণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছে, তখন এ গ্রামের প্রায় ২৫০ পরিবার ঈদের দিন কাটিয়েছে কোরবানির মাংস ছাড়াই।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, গোয়াইলপুরী এলাকার কোনো পরিবারই কোরবানির মাংস পায়নি। অনেকেই সামর্থ্য অনুযায়ী বাজার থেকে সামান্য ব্রয়লার মুরগির মাংস কিনে খেয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ। শ্রমজীবী, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর অধিকাংশেরই কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই। এমনকি অন্য কোথাও থেকেও তাদের জন্য মাংস পৌঁছেনি।
আরও পড়ুন <<>> বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে বহু হতাহত
আনোয়ার হোসেন বলেন, গত এক মাসে নদীভাঙনে অন্তত ২০-২৫ পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে একটি মাদরাসাসহ আরও বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কয়েকটি পরিবার পানিবন্দিও হয়ে পড়েছে।
গোয়াইলপুরী এলাকার আমেনা বেওয়া বলেন, হামার এলাকার সগাই খাটি খাওয়া মানুষ। কোরবানি তো দূরের কথা গোশতো কিনি খাওয়ার উপায় নাই। সকাল থাকি বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষায় ছিনু। কাইয়ো এক টুকরো গোশতো দেইল না। এবার আর কোরবানির গোশতোর স্বাদ পাইলোং না।
এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, প্রতিবছর এসব চরে গরু কোরবানি হলেও আমার জানামতে এ ঈদে কোন গরু কোরবানি হয়নি। এছাড়াও গোয়ালপুরী এলাকার অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের৷ তাদের কোরবানির সামর্থ্য নেই।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































