ছবি : আপন দেশ
সোহাগী জাহান তনু। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী ছিলেন। তাকে হত্যার বিচারকার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। এবার নতুন করে বিচারের আশার আলো দেখছে তার পরিবার।
তনুর পরিবারের সদস্যা জানান, তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলামকে কুমিল্লার আদালতে তলব করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেয়ার পরই সোমবার (০৬ এপ্রিল) তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতকে লিখিত ব্যখ্যা দেয়ার কথা।
সর্বশেষ গত বছরের ৭ এপ্রিল বিকালে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ওই তদন্ত কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের তদন্ত টিম মামলার বাদী তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেনের সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে কথা বলেন।
পিবিআই পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম এ মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। কিন্তু এখনই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) কিংবা ফাইনাল রিপোর্ট ( চুড়ান্ত রিপোর্ট) দেয়া হচ্ছে না। আদালতে এসে মামলার তদন্তের কিছু বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব। এখন এর বেশি কিছু আর মন্তব্য করা যাচ্ছে না।’
এর আগে ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। শুরুতে থানা-পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি।
সর্বশেষ পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি। গত প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদরদপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন : এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন রাতে বলেন, ‘মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হয়েছে। এ পর্যন্ত অসংখ্য বার সেনানিবাস এলাকা, কুমিল্লা পুলিশ অফিস ও ঢাকার বিভিন্ন দপ্তরে সাক্ষ্য দিয়েছি। কোনো ফলাফল পাচ্ছি না। আজ তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেছেন সোমবার আদালতে থাকতে, আমি আদালতে যাবে। মরার আগে নতুন সরকারের কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































