Apan Desh | আপন দেশ

তেঁতুলিয়া সীমান্তের গ্রামে রাজকীয় টিউলিপ

পঞ্চগড় প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:১৬, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

তেঁতুলিয়া সীমান্তের গ্রামে রাজকীয় টিউলিপ

ছবি: আপন দেশ

উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এখন যেন রূপকথার এক বর্ণিল অধ্যায়। শীতের হিমেল হাওয়া আর কাঞ্চনজঙ্ঘার ছায়া মেখে সীমান্তের দর্জিপাড়া গ্রামে পঞ্চমবারের মতো ফুটেছে রাজসিক সৌন্দর্যের টিউলিপ। প্রান্তিক নারীদের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে ওঠা এ বাগান ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছে টিউলিপ গ্রাম হিসেবে। হিমালয়ের পাদদেশে ফুটে থাকা বাহারি রঙের এ ফুল দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শতশত পর্যটক।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যে, টিউলিপ উদ্যোন পরিদর্শনে এসেছেন ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান, সংস্থাটির পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতার, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবোধ চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন বয়সী পর্যটক। 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর উদ্যোগে চাষ হচ্ছে এ ব্যতিক্রমী টিউলিপ প্রজেক্ট। বাগানজুড়ে লালিবেলা, ডেনমার্ক, স্ট্রং গোল্ড আর মিস্টিক ভ্যান ইজক জাতের ফুলে ছেয়ে আছে পুরো এলাকা। নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা বাল্ব থেকে জানুয়ারির ১০ তারিখে বপন করা চারা ২০-২৫ দিনের মধ্যেই রঙিন ফুলে ভরে উঠেছে। 

আরও পড়ুন<<>>‘দ্রুতই ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে’

এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করা। টিউলিপ চাষি নারী উদ্যোক্তা মোছা. রইসুন আক্তার জানান, প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি ফুল বিক্রি হচ্ছে। গত চার মৌসুমে একেকজন উদ্যোক্তা ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট মুনাফা করেছেন। এ আয় তাদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছে এবং সন্তানদের পড়াশোনায় বড় ভূমিকা রাখছে।

দর্জিপাড়ার টিউলিপ বাগানকে ঘিরে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে পর্যটকদের আনাগোনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে বনভোজনে আসা দর্শনার্থীরাও ছুটে আসছেন টিউলিপের মায়ায়।

ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তেঁতুলিয়াকে ইকোট্যুরিজমে এগিয়ে নেয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রকল্পটি শুধু আর্থিক নয়, সামাজিক পরিবর্তনেরও প্রতীক।

ইএসডিওর পরিচালক (প্রশাসন) ড. সেলিমা আখতারের মতে, নারীদের হাতে ফোটা টিউলিপের সৌন্দর্য পর্যটকদের মুগ্ধ করছে। এটি এ দেশের নারীদের সাহস ও সক্ষমতার প্রতিচ্ছবি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, এ ভিনদেশি বাহারি ফুল স্থানীয় পর্যটনে নতুন সংযোগ তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে এটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ নিতে পারে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুবোধ চন্দ্র রায় বলেন, টিউলিপ নেদারল্যান্ডসের একটি উচ্চ মূল্যের ফুল। যদিও এটি চাষ ব্যয়বহুল, তবে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। আমরা পরামর্শ দিচ্ছি টিউলিপের পাশাপাশি সারাবছর আবাদ করা যায় এমন ফুল চাষ করতে, যাতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হয়।

সীমান্তের ছোট্ট গ্রাম দর্জিপাড়া আজ আর সাধারণ কোনো পল্লী নয়, এটি এখন বাংলাদেশের একখণ্ড নেদারল্যান্ডস। প্রান্তিক মানুষের শ্রম, নারীর সাহসিকতা আর ভিনদেশি ফুলের মিতালিতে তেঁতুলিয়া হয়ে উঠেছে অনন্য। হিমালয়ের পাদদেশে টিউলিপের রঙিন সমারোহ দেখতে চাইলে এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। উত্তরের এ জনপদ অপেক্ষায় আছে আপনাকে রঙ, সৌরভ আর নতুন সম্ভাবনার গল্প শোনাতে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়