Apan Desh | আপন দেশ

দস্যু আতঙ্কে দিশেহারা সুন্দরবনের জেলেরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৮:৪৫, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দস্যু আতঙ্কে দিশেহারা সুন্দরবনের জেলেরা

ছবি: আপন দেশ

বনদস্যুদের অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন জেলেরা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অন্তত ১০ সহস্রাধিক জেলে। রুটি-রুজি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুবলার চরের শুঁটকি পল্লীর জেলেরা সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ আহরণ বন্ধ রেখে চরে অবস্থান করছেন। বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে বন বিভাগ রাজস্ব হারাবে এবং উপকূলীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে অপহৃত ২০ জেলের দুদিনেও সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তাহীনতার কারণে জেলেরা নদী ও সাগরে নামছেন না। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে কী নিয়ে বাড়ি ফিরবেন—এ দুশ্চিন্তায় তারা দিশেহারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে চারটি দস্যু গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা জেলেদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে। টাকা দিতে না পারলে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে আহত চার জেলে রামপাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কম থাকায় দস্যুরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন <<>>শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ সহযোগী গ্রেফতার

রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, গত ১৫ দিনে বহু জেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। এখনো শতাধিক জেলে দস্যুদের কব্জায় থাকতে পারেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় জানান, জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে কোনো জেলে নতুন করে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। ফলে মাসিক রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় প্রভাব পড়ছে।

শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বনদস্যুদের তৎপরতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং জেলেদের নিরাপত্তায় বনরক্ষীরা কাজ করছেন। দস্যু আতঙ্ক কেটে না গেলে উপকূলীয় অর্থনীতি ও জেলেদের জীবন-জীবিকায় বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়