ছবি: আপন দেশ
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় কারো কাছ থেকে কোনো আতিথেয়তা নেয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার নির্বাচন ভালো হবে। স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা, এক সুতা এপাশ ওপাশ ফেলবেন না। আপনি একজন নাগরিক, আপনি ভোট দেবেন, একটা কেন্দ্রে কোনো একটা মার্কাকে ভোট দেবেন। কোনো একজন প্রার্থীকে ভোট দেবেন- অতটুকুই। আমাদের পার্টিজানশিপ (পক্ষপাতিত্ব) অতটুকুই।
আরও পড়ুন<<>>জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি
আমি যেহেতু দায়িত্ব পালন করছি, একটা সুতা ডানে থেকে বামে যাবার সুযোগ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কাউকে কখনো কোনো পক্ষ অবলম্বন করে কোনো কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হবে না। তারপরও যদি আপনারা কেউ পক্ষপাতিত্ব করেন ‘ইট ইজ ইউর ইনডিভিজ্যুয়াল রেসপন্সবিলিটি’। সেক্ষেত্রে কিন্তু নির্বাচন কমিশন ভয়ানক দৃঢ় হবে, যোগ করেন তিনি।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এলাকায় (ভোট কেন্দ্রে) গিয়েছেন দায়িত্ব পালন করতে। আপনাদের জন্য নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার মধ্যে আপ্যায়ন বাবদ সামান্য কিছু বরাদ্দ দিয়েছি। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আমাদের সন্তানদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা নির্বাচন অনুষ্ঠান করছি। আমরা এটুক মেনে নিই। কারো কাছ থেকে এক গ্লাস পানিও খাবেন না। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন এলাকার পাতি নেতা খাবার উপহার দেন বা অফার করেন।
আমাদের প্রস্তুতি না থাকার কারণে অনেকে নিতে বাধ্য হতো। এবার কেউ বলতে পারবে না যে তার প্রস্তুতি নেই। সবার জন্য আলাদা আলাদা বরাদ্দ দিয়ে দেয়া হয়েছে। কারও কাছ থেকে কোনো অতিথিয়েতা নেয়া যাবে না। এখন থেকে শুরু করে নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত।
তিনি বলেন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যাতে কোনো অবৈধ লেনদেন না হয়, সে জন্য আমরা সেন্ট্রাল নির্দেশনা দিয়েছি। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এটা নিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আচরণবিধির মধ্যে বলে দেয়া আছে, ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে। কেন্দ্রের মধ্যে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই। ভোট দিয়ে ৪০০ গজের বাইরে চলে যাবে। কেন্দ্র দখলে রাখতে হবে, ফলাফল আদায় করে ঘরে ফিরতে হবে- এটা হলে তখন দুই-তিন পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হবে। আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি, এখানে সব এজেন্ট আছেন, যে ভোট পড়ছে, সে ভোটই কাউন্ট হচ্ছে। যা কাউন্ট হয়েছে, সে ফলাফলই প্রকাশিত হবে। কেন্দ্র দখল করে ফলাফল আদায় করার কোনো সুযোগ নেই।
অতীতের চেয়ে বর্তমানে আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক বেশি সচেতন বলেও মনে করেন ইসি।
তিনি আরও বলেন, জুলাইযোদ্ধারা খালি হাতে লড়াই করেছেন। এবার আমাদের হাতে আইন-কানুন ও অস্ত্র-গোলা বারুদ রয়েছে। তাহলে আমরা কী পারবো না সুষ্ঠুভাবে একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে? গ্রাম-পুলিশ, আনসার-ভিডিপির সদস্যরা জানেন স্থানীয়ভাবে কোনো বহিরাগত কেউ আছেন কিনা, কে মারা গেছেন, আর কে জীবিত আছেন- তারা ভালো জানেন। তাদের সোর্সকে কাজে লাগাতে হবে। একটি ভালো নির্বাচনের প্রথম দিক হলো ভালো আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
পরিস্থিতি ভালো হলে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত হবে জানিয়ে ইসি আরও বলেন, যে পোস্টাল ব্যালট ভোটারের মাধ্যমে ভেরিফাই হবে না, সেটা আমরা গ্রহণ করবো না। লাইভ ভেরিফাই করে ভোট দিতে হবে। না হলে সে ভোট গণনায় আসবে না। পোস্টাল ব্যালট-একটি দীর্ঘদিনের দাবি ও স্বপ্নের ফল। এটা কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবে না।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিবি-৪ ব্যাটেলিনের সিইও মো. মোশারফ হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সেনাবাহিনী লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সম্রাট খীসাসহ অনেকে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































