Apan Desh | আপন দেশ

টাঙ্গাইল মেডিকেলের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩৯, ১৭ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইল মেডিকেলের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: আপন দেশ

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। এসময় তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিক কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান। তাদের মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। 

আরও পড়ুন<<>>পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে গাইবান্ধায় র‌্যালি

তিনি বলেন, কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়- তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে। এখানে কোন অনিয়ম চলবে না।

প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পরিস্থিতি পর্যায়ে গিয়েছে।
 
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন। 

এ সময় দায়িতপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে- সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
হাসপাতালের পরিচালকের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার উদ্দেশ্যই ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব- জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পরিদর্শন শেষে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সাংবাদিকদের বলেন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সময় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এসএম রোকনুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়