Apan Desh | আপন দেশ

জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট-এতিমখানা এখন ভূতের বাড়ি

বাগেরহাট প্রতিনিধি, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৭ জুন ২০২৬

জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট-এতিমখানা এখন ভূতের বাড়ি

ছবি: আপন দেশ

বাগেরহাটে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট-এতিমখানা এখন ভূতের বাড়ি। অযত্নে, অবহেলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে মসজিদসহ কোটি কোটি টাকার স্থাপনা। সঠিক তদারকি না থাকায় প্রায় চার একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি ঝোপঝাড়-আগাছায় পরিপূর্ণ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় হিন্দু ও মুসলিম জমিদাতাসহ সকলের প্রাণের দাবি, এটি পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।

‎১৯৯৪ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আ স ম মোস্তাফিজুর রহমান বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে ৩.৯০ একর  জমিতে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট নামে এ প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। উদ্দেশ্য ছিল ১০ থেকে ১৮ বছর এতিম-দুস্থ্ঃদের লালন-পালন ও স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র মানুষদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এসব কাজ পরিচালনা করার জন্য ৫ কক্ষের অফিস ভবন, এতিম-দুস্থ্যদের থাকার জন্য ৩০ শয্যা বিশিষ্ট ২ তলা আবাসিক ভবন, ১৮ কক্ষের ২ তলা প্রশিক্ষন ভবন, একতলা ক্লিনিক ভবন, মসজিদ, পুকুর, দর্জি বিজ্ঞান প্রশিক্ষণ উপকরণ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী সবই ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় শিশুদের শিক্ষা দেয়ার জন্য ফিডার স্কুল, দর্জি বিজ্ঞান, ইলেক্ট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ কোর্সও চালু করা হয়েছিল। 

দীর্ঘদিন এটি সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম চালালেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্থবিরতা শুরু হয়। কিছুদিন ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে চললেও, রাজনৈতিক রোষানলে অর্ধযুগের বেশি সময় সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এক সময় ১২ জন ষ্টাফ থাকলেও, বর্তমানে মাত্র দুই জন নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছে। তারাও দীর্ঘ ৯ মাস ধরে পাননা বেতন। 

আরও পড়ুন<<>>বাগেরহাটে নিন্মমানের ইট-পাইলিং ছাড়াই সড়ক নির্মাণ

জমিদাতা ও স্থানীয়দের দাবি, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম থাকায় আওয়ামী সরকারের রোষানলে পড়ে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট এতিমখানার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এক সময়ে এতিম শিশুদের বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া, পড়াশুনা ও প্রশিক্ষণ দেয়া এ প্রতিষ্ঠানটি। তবে সরকার পরিবর্তনের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি কার্যক্রম। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একটাই দাবি রাজনৈতিক রোষানলে পড়া জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানটি অতিদ্রুত তার পূর্বের রূপে ফিরে আসুক। 

বাংলাদেশে জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজ ট্রাস্ট এতিমখানার দুটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি বাগেরহাট আরেকটি বগুড়াতে। প্রতিষ্ঠানটিকে চালু করে পূর্বের অবস্থানে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক। এর মাধ্যমে এলাকার দুস্থ, এতিম অসহায়দের কারিগরি জ্ঞানে শিক্ষিত করে দেশের অবদানে ভূমিকা রাখতে পারে  এ প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন শরীফ মোস্তফা জামান লিটু। তিনি আওয়ামী দুঃশাসনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটিকে অতি দ্রুত পূর্বের অবস্থানে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। ‎শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া জনকল্যাণ মূলক প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি। এর পাশাপাশি সরকারের যাবতীয় সহযোগিতা কামনা করেন।

জেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম রফিকুল ইসলাম জানান, জিয়া মেমোরিয়াল অরফানেজট্রাস্ট প্রতিষ্ঠানটি চমৎকার একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। সমাজসেবা অধিদফতর যেমন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করে। এটিও সেই কাজটি করে। যদি এটিকে সরকার চালু করে আমাদের কাজ করার সুযোগ দেয়, তাহলে আমরাও কাজ করতে আগ্রহী।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়