ছবি : আপন দেশ
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণে সোহান ব্যাপারী (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণে একটি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) ভোরে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের সাতঘরিয়াকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহান বেপারী পার্শ্ববর্তী সাতগড়িয়া কান্দি এলাকার দেলোয়ার বেপারীর ছেলে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলেন, এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে সোহানের নামে মামলা হয়েছিল। তিনি রাতে সাধারণত বাড়িতে থাকতেন না। (০৭ জানুয়ারি)রাত ১১টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে ফসলি জমি থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাওয়া গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মদ বলেন, আজ ভোরে সাতঘরিয়াকান্দি গ্রামে একটি বসতঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘরে বোমা ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ছিল। আধা কিলোমিটার দূরে ফসলি জমিতে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত ও রক্তাক্ত লাশ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা কীভাবে ঘটেছে এবং ওই ব্যক্তির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে।
আরও পড়ুন<<>>জাতীয় পার্টির শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
নিহত সোহান ব্যাপারীর বোন মাজেদা আক্তার বলেন, স্থানীয় নাসির ব্যাপারীর সঙ্গে তার ভাইয়ের বিরোধ চলছিল। তার নামে মামলা থাকায় বাড়িতে থাকতে পারতেন না। এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে পালিয়ে থাকতেন। বুধবার রাত ১১টার দিকে সোহান বাড়ি থেকে বের হন। বৃহস্পতিবার সকালে ফসলি জমিতে তার লাশ পড়ে থাকার কথা জেনে ছুটে এসেছেন।
এর আগে রোববার (০৪ জানুয়ারি) জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাবেদ শেখ (২০) নামে একজন আহত হন।
জাজিরা থানা সূত্র জানায়, ওই বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং সংঘর্ষ হলেই দুই পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। গত বছরের ৫ এপ্রিল ও ২ নভেম্বর বিলাশপুরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করে।
এসব ঘটনার পর পুলিশ কুদ্দুস ব্যাপারী, আবদুল জলিল মাতবরসহ তাদের বেশ কয়েকজন সমর্থকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করে। ওই মামলায় আবদুল জলিল মাতবর বর্তমানে কারাগারে। আর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকা ছেড়ে গেছেন। বর্তমানে তাদের সমর্থক মান্নান ব্যাপারী ও নাসির ব্যাপারীর লোকজন নতুন করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। মান্নান ব্যাপারী কুদ্দুস ব্যাপারীর সমর্থক এবং নাসির ব্যাপারী আবদুল জলিল মাতবরের সমর্থক।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































