Apan Desh | আপন দেশ

নোবেল পদকের বিনিময়ে কি পেলেন মাচাদো

প্রকাশিত: ১৬:২৩, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

নোবেল পদকের বিনিময়ে কি পেলেন মাচাদো

কোলাজ আপন দেশ

ভেনেজুয়েলার প্রভাবশালী বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে একটি বৈঠকে অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এ বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

বৈঠকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন মাচাদো। বিনিময়ে মাচাদোকেও একটি সরকারি স্বাক্ষরসংবলিত ব্যাগ উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে এ প্রতীকী বিনিময়ের মধ্যেও ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

হোয়াইট হাউস সূত্রে সিএনএন জানায়, মাচাদো আশা করেছিলেন এ বড় ত্যাগের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন পাবেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন তার নেতৃত্ব সক্ষমতা নিয়ে আগের মতোই সন্দিহান রয়েছে।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ পার হন মাচাদো। সে সময় তার হাতে নিজের পার্সের পাশাপাশি একটি লাল রঙের ব্যাগ দেখা যায়। ব্যাগটিতে সোনালি অক্ষরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছিল। ব্যাগের ভেতরে কী ছিল, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পান মাচাদো। সে পুরস্কারের পদকটিই তিনি প্রতীকীভাবে হোয়াইট হাউসে রেখে আসেন। মাচাদো এ বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ ও ‘অসাধারণ’ বলে অভিহিত করেন।

তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। পাশাপাশি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বও তারা বুঝতে পেরেছে বলে তার বক্তব্য।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, মাচাদো তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিয়েছেন। তিনি একে পারস্পরিক সম্মানের বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এ ঘটনার পরপরই নরওয়ের অসলোভিত্তিক নোবেল পিস সেন্টার একটি সতর্ক ব্যাখ্যা দেয়। তারা স্পষ্ট করে জানায়, পদক হস্তান্তর করা গেলেও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর উপাধি বা মর্যাদা অন্য কারও কাছে স্থানান্তর করা আইনত অসম্ভব। অর্থাৎ ইতিহাসের বিচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনোই এ পুরস্কারের বিজয়ী হবেন না।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার রাজনীতিতে বড় সংকটে আছেন মাচাদো। নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী গ্রেফতার করার পরও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে সমর্থন দেয়নি। বরং মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন : ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি স্থগিত করেছে ইরান : হোয়াইট হাউস

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বৈঠকের আগেই জানিয়েছিলেন, মাচাদো সম্পর্কে ট্রাম্পের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি। ট্রাম্পের মতে, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত জনসমর্থন মাচাদোর নেই।

লিভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট মাচাদোকে একজন সাহসী কণ্ঠ হিসেবে দেখেন। তবে বাস্তবতার বিচারে তিনি মনে করেন, এ মুহূর্তে ডেলসি রদ্রিগেজই একজন স্থিতিশীল ও বাস্তবসম্মত নেতা। যুক্তরাষ্ট্র তার মাধ্যমেই ভেনেজুয়েলায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস।

সব মিলিয়ে, মাচাদোর এ হোয়াইট হাউস সফর প্রতীকী গুরুত্ব পেলেও বাস্তব রাজনৈতিক অর্জন কতটা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একটি ছবি এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষরযুক্ত উপহারব্যাগ ছাড়া বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য চোখে পড়েনি।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়