Apan Desh | আপন দেশ

বিদেশিদের শেয়ার লেনদেনে বিক্রি বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৩, ৩০ আগস্ট ২০২৬

বিদেশিদের শেয়ার লেনদেনে বিক্রি বেশি

ছবি : আপন দেশ

চলতি আগস্টে এখন পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ২৮১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। এর মধ্যে ৬৩ কোটি টাকার শেয়ার কিনলেও বিক্রি করেছেন ২১৮ কোটি টাকার। 

এ লেনদেন ডিএসইর মোট লেনদেনের মাত্র শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, গত ২৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এক হাজার ১৪৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছেন এক হাজার ২৬৪ কোটি টাকার। ব্রোকার-ডিলার অ্যাকাউন্ট থেকে কেনা হয়েছে প্রায় ২৭৫ কোটি এবং বিক্রি হয়েছে ২৫৯ কোটি টাকার শেয়ার। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ১৪ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকার শেয়ার কেনার বিপরীতে বিক্রি করেছেন ১৪ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার। তাদের লেনদেন মোট লেনদেনের ৮৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হয়ে কাজ করা কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিদেশিরা নতুন করে কিছু বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে সেই ধারা স্থায়ী হয়নি। বর্তমানে তারা অনেকটা বিক্রির প্রবণতায় রয়েছেন।

বিদেশিরা কোন কোন শেয়ার বিক্রি করছেন, আগস্টের তথ্য এখনো প্রকাশ হয়নি। 

ব্রোকারেজ কর্মকর্তাদের মতে, তাদের লেনদেন মূলত ৮-১০টি কোম্পানির শেয়ারে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, গ্রামীণফোন ও বেক্সিমকো ফার্মা।

ব্র্যাক ইপিএলের এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশিরা পুরোপুরি বিক্রির মেজাজে আছেন, এমনটা বলা ঠিক হবে না। তারা কিছু শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি কিছু শেয়ার কিনছেন। বিদেশি পোর্টফোলিও ম্যানেজাররা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ফান্ডের মেয়াদ বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেন। তাই তাৎক্ষণিক ঘটনায় তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন না।

আরেক ব্রোকারেজ কর্মকর্তার মতে, বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব, বাজারের লেনদেনের নিয়মে সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ বিদেশিদের নজরে রয়েছে। ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, গত জুলাই শেষে ডিএসইতে বিদেশিদের হাতে থাকা শেয়ারের পরিমাণ মোট শেয়ারের ২ দশমিক ০১ শতাংশে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ২ দশমিক ০৭ শতাংশ। একই সময়ে বাজার মূলধনে বিদেশিদের অংশ ৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ থেকে কমে ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ হয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী মারস্ক 

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকট নিয়ন্ত্রণে আসা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হলে বিদেশি বিনিয়োগ আবার বাড়তে পারে।  

আপন দেশ/মিম/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়