ফাইল ছবি
একটি দলের সফলতা, কৌশলগত উন্নতি এবং খেলোয়াড়দের সঠিক নির্দেশনা প্রদানে কোচিং স্টাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোচরা প্রতিপক্ষ দলের শক্তি ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করে খেলার কৌশল তৈরি করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জাতীয় দলের জন্য দেশি কোচদের ওপর ভরসা রাখছে। বর্তমানে জাতীয় দলের প্যানেলে বিদেশিদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন দেশি কোচ আছেন। খালেদ মাহমুদ সুজনও জানালেন বিদেশি, কোচদের চেয়ে দেশি কোচদের অধীনেই ভালো করবেন ক্রিকেটাররা। এবার নতুন করে এর কারণ ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
সুজন বলেন, এটাই হওয়া উচিৎ আসলে। অনেকের লেভেল থ্রি শেষ করা। এ সুযোগ আরও আগেই দেয়া উচিৎ ছিল। বাংলাদেশ দলে এখন আশরাফুল, তালহা, সালাউদ্দিন, সোহেল, বাবুল ভাই অনেককেই দেখতে পাচ্ছি, খুবই খুশি। এইচপি দলে সালাউদ্দিন দায়িত্ব নিচ্ছে। জুনিয়র লেভেলের জন্য এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট রকেট সায়েন্স না যে অস্ট্রেলিয়ানরা ভালো শেখাতে পারবে আর বাংলাদেশিরা পারবে না। যেভাবে এগোচ্ছে, আমি খুশি। ভবিষ্যতে বড় বড় কোচ হবে যারা বিদেশেও কাজ করবে।
বিদেশিদের চাইলে সীমিত সময়ের জন্য পরামর্শক হিসেবে নেয়া যেতে পারে বলে মনে করেন সুজন, পরামর্শক নেয়া যেতে পারে। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য স্পেশালিস্ট ব্যাটিং কোচ বা এমন কিছু। তবে আমি বারবার বলি, ক্রিকেট রকেট সায়েন্স না। পাওয়ার হিটিং কোচ এনে সুফল কতটা দেখেছি সবাই। বিদেশি কোচ যে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে খুব পরিবর্তন করে দিয়েছে, অনেক বড় জায়গায় গিয়েছে- এমন তো না। হ্যাঁ উন্নতি হয়েছে অস্বীকার করব না। ফাস্ট বোলিং কোচদের কথা বলতেই হবে।
ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জির কথা বলব আলাদা করে। ওর সময়ে দারুণ উন্নতি হয়েছে। তবে স্থানীয় কোচরা এখানেই পিছিয়ে গেছে। ক্রিকেটের ভাষা একটাই। ওরা ইংরেজিতে বলে, আমরা বাংলায় বলি। টেকনিক্যাল বিষয়টা তো আলাদা কিছু না। ইনসুইং বোলার কীভাবে ইনসুইং করবে, গ্রিপ কী হবে সব তো সব দেশে একইভাবে চর্চা হয়। তাই কোচরা পিছিয়ে আছে এটা বিশ্বাস করতে চাই না। বরং জুনিয়র লেভেলে ভাষাগত সমস্যা থাকে, দেশি কোচরা আরও ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন<<>>টেলিভিশনে আজকের যত খেলা
আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও দেশি কোচরা সাফল্য আনতে পারবেন বললেন সুজন, দক্ষিণ আফ্রিকা তো পৃথিবীর বাইরের না। সবার আইডিয়া আছে, কেমন খেলা হবে। বাংলাদেশের সেরা সাফল্য তো দক্ষিণ আফ্রিকাতেই- (অনূর্ধ্ব-১৯) বিশ্বকাপ জয়। দীর্ঘ মেয়াদে পদ থাকা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশিরা তো অনেক সময় ট্যুর ভিত্তিক আসে।
ট্যুর শেষে ১৫ দিনের ছুটি, কেউ আসে এক মাস পর। ওই সময় ছেলেরা কাকে নিয়ে কাজ করবে? দীর্ঘ মেয়াদে থাকা ভালো। স্থানীয় থাকলে কাজ করতে পারে ট্যুর শেষেও। আমি বিদেশি কোচের বিপক্ষে না। তবে টি-২০ স্পেশালিস্ট বা এমন স্পেশালিস্ট কোচ এসব বানানো কথা। ব্যাটিং একই জিনিস। বেসিক ভালো থাকলে আপনি যেকোনো ফরম্যাটে ভালো করতে পারবেন।
বাংলাদেশের স্থানীয় কোচদের নিয়ে সুজন বলেন, আপনি যদি বোলিং কোচ চান, তালহা আছে, সোহেল আছে। সহকারী না করে… সিমন্স ব্যাটিং দেখছে। একজন লাগবে স্পিন, একজন ফাস্ট বোলিং, একজন ফিল্ডিং কোচ। এদেরই সহকারী বলুন। আলাদা করে যদি রাখেন, দুইরকম দায়িত্ব তৈরি হবে। মূল পরিকল্পনা তো কোচ-ক্যাপ্টেনই করবে।
সহকারী কোচের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। এখন ব্যাটিংয়ে আশরাফুল আছে। ফাস্ট বোলিংয়ে তালহা। সোহেল তো অনেক অভিজ্ঞ, সব সিনিয়র স্পিনারকে নিয়ে ও কাজ করে। ওরও দলের সাথে থাকা উচিৎ। বিদেশি আনলে ভাবতে হবে, কোথায় আনবেন? তালহা বা আশরাফুল ভালো মনে না হলে আনতে পারেন। তবে দলের প্রয়োজন বুঝতে হবে। কাকে আমার দরকার সেটা বুঝতে হবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































