Apan Desh | আপন দেশ

নাঈমের লড়াকু ইনিংসে ১৭০ রানের পরীক্ষায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:৫০, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ১২:৫১, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নাঈমের লড়াকু ইনিংসে ১৭০ রানের পরীক্ষায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ছবি: সংগ্রহীত

অপরপ্রান্তে ব্যাটাররা যখন এক এক করে সাজঘরে ফিরেছেন, তখন একপ্রান্তে অবিচল থেকে বুক চিতিয়ে লড়াই চালিয়ে গেলেন নাঈম হাসান। যার মূল পরিচয় বোলার হিসেবে। সে নাঈমই হয়ে উঠলেন দলের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট অর্ধশতকে বাংলাদেশকে এনে দিলেন লড়াইয়ের পুঁজি। তার ৫২ রানের ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ১৭০।

মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং যে সহজ হবে না, তার আভাস মিলেছিল প্রথম থেকেই। বল ঘুরছে, কখনো আবার প্রত্যাশার চেয়ে নিচু হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ও স্বীকৃত ব্যাটারদেরও অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে। তাওহীদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম ও লিটন দাসের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। সাদমান ইসলাম করেছেন ১৩, নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ১০ রান। অথচ এমন কঠিন সময়েই ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন নাঈম।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তৃতীয় দিন ৭৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ শনিবার (৩১ অক্টোবর) চতুর্থ দিনের শুরুতেই হারায় জাকের আলী অনিককে। জোমেল ওয়ারিকানকে চার মেরে আশার আলো দেখালেও পরের বলেই রস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে। ৩৪ বলে ২২ রান করে জাকের যখন ফিরছেন, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৪। দলের বিপদ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

তবে নাঈমকে সঙ্গ দিতে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররাও যেন বাংলাদেশের হয়ে খেলতে শুরু করেন! একের পর এক ক্যাচ মিস করে স্বাগতিকদের সুযোগ করে দেয় সফরকারীরা। বিশেষ করে ওয়ারিকানের বলে তিনটি ক্যাচ হাতছাড়া হয়। হাসান মাহমুদের একটি সহজ ক্যাচ নিতে পারেননি ওয়ারিকান। পরে নাঈমের দুটি ক্যাচও ফেলেন চেজ। ২১ ও ২৯ রানে পাওয়া জীবনগুলোকে কাজে লাগাতে ভুল করেননি বাংলাদেশের এ ব্যাটার।

আরও পড়ুন<<>>টেলিভিশনে আজকের যত খেলা

জীবন ফিরে পাওয়ার পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন নাঈম। পরিস্থিতির দাবি মেনে একদিকে উইকেট আগলে রেখেছেন, অন্যদিকে সুযোগ বুঝে রান তুলেছেন। তার ব্যাটিংয়ে ছিল না অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি, ছিল দলের প্রয়োজনে লম্বা সময় উইকেটে থাকার প্রত্যয়। সে প্রত্যয়ের ফলও পেয়েছেন। তুলে নিয়েছেন নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটি। শেষ পর্যন্ত ৫২ রান করে থেমেছে তার ইনিংস। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।

টেস্টে নাঈমের আগের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস, আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবিতে। এবার ঘরের মাঠে ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটি খেললেন আরও কঠিন এক পরিস্থিতিতে। মজার ব্যাপার, এ টেস্টে বল হাতেও নাঈম ছিলেন কার্যকর। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে দলের বোলিংয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। এবার ব্যাট হাতেও নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিলেন।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয়েছে ১৪২ রানে। ৪৮.৪ ওভারের এই ইনিংসে নাঈমের ৫২ রানের পাশাপাশি জাকের করেছেন ২২, সাদমান ১৩ এবং শান্ত ১০ রান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজ নিয়েছেন পাঁচ উইকেট, জোমেল ওয়ারিকানের শিকার চারটি।

প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশের সামনে এখন ম্যাচ জয়ের কঠিন সমীকরণ। ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত বিনা উইকেটে ৮ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ১৬২ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশকে জিততে হলে নিতে হবে ১০ উইকেট।

মিরপুরের উইকেটের চরিত্র বিবেচনায় এই লক্ষ্যকে মোটেও নিরাপদ বলা যায় না। স্পিনারদের জন্য যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যাটারদের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা!

আপন দেশ/জেডআই

 

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়