Apan Desh | আপন দেশ

জামায়াতপন্থি ১৮ আইনজীবীর পদত্যাগ ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:১২, ২৪ জুন ২০২৬

আপডেট: ১৬:১৩, ২৪ জুন ২০২৬

জামায়াতপন্থি ১৮ আইনজীবীর পদত্যাগ ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’: বিএনপি

ছবি : আপন দেশ

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে জামায়াতপন্থি ১৮ আইন কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগ করেছে। এ পদত্যাগের ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা বাদল।

বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে গত চার মাসে তারা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, যখনই সরকার পরিবর্তন হয়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল পদে থাকা ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যান, এটাই বাংলাদেশে সবসময় হয়ে এসেছে।

তিনি বলেন,‘ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, তারা এ সরকারের অধীনে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন। বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। চার মাস পরে উনাদের মনে হল যে এখন তো আসলে পদত্যাগ করা দরকার অথবা রিমুভড হবেন। এ জন্য তারা রাজনৈতিক কিছু বিষয় নিয়ে এসেছেন, যেটা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত।

জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ইসলামিক লয়ার্স কাউন্সিলের সদস্য সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) এবং ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মঙ্গলবার একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

তাদের পদত্যাগপত্রে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

পদত্যাগকারী সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) হলেন— মো. ইউসুফ আলী, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মুহাম্মদ আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া, মো. আসাদ উদ্দিন ও মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

এছাড়া ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) হলেন— ইমরুল কায়েছ, মো. হুমায়ুন কবির, মো. আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারফ ফাহিম, মো. জোবায়দুর রহমান, মোহাম্মদ শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলী, মীর এ কে এম নূরুননবী, আল রেজা মো. আমির, মো. রেজাউল ইসলাম ও মো. জাকির হোসেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের ওই বক্তব্যটা টোটালি পলিটিক্যাল স্ট্যান্টবাজি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা যদি সরকারের বিরুদ্ধে আচরণই করত, তারা যদি সরকারের সুযোগ-সুবিধাই না নিত, তাহলে সরকার গঠন হওয়ার পরদিনই তাদের পদত্যাগ করে চলে যাওয়ার কথা।

আরও পড়ুন <<>> সাংবাদিকের ওপর হামলা, জামায়াতের দুঃখপ্রকাশ

বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমি অ্যাটর্নি জেনারেল সাহেবকে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই যে, এ চার মাস উনারা সরকারের পক্ষে কাজ করেছে, নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ করেছে? এ চার মাসের যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো ফাইল যেন উনারা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখা হয়।

তিনি আবার বলেন, সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে, আর চার মাস কাজ করে, দিনশেষে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেবে; এতে মনে হচ্ছে তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করেনি। আপিলের ক্ষেত্রে তারা কী নোট দিয়েছেন বা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করেছেন কিনা, সেটি এখন দেখা দরকার।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের আসন্ন রদবদল প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ পদত্যাগ কি না— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, রিশাফলের বিষয়টা মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের। আইনমন্ত্রী তো এখানে প্র্যাক্টিস করতেন। তিনি পুরোপুরি জানেন এখানে কার কী ভূমিকা ছিল, কারা কোন দলের ছিল। কাজেই এটা আইন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, তাদের রেজিগনেশন তো বহু আগেই হওয়া উচিত ছিল। সরকার গঠনের পরেই হওয়া উচিত ছিল। আর উনাদের রেজিগনেশন ওই রদবদলের পার্ট কি না, এটা এই মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে না।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়