Apan Desh | আপন দেশ

সকালেও আলোচনায়, বিকেলে বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সকালেও আলোচনায়, বিকেলে বাদ

উপর থেকে: ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও মির্জা আব্বাস। নীচ থেকে: নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ফজলুর রহমান। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে বিএনপি। দীর্ঘ দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনায় দলের তরুণ ও নতুন মুখের প্রাধান্য দিয়েছে দলটি। যে কারণে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন দলটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র ও প্রভাবশালী নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে এবার মন্ত্রিসভা গঠনে ‘পরিবর্তন ও তারুণ্যের’ ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেন।

বাদ পড়লেন তারা

ড. আব্দুল মঈন খান জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে পারেন। নয়তো মন্ত্রী। বিএনপির সিনিয়র এই রাজনীতিককে নিয়ে এমনই আলোচনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে তার জায়গায় হয়নি বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায়। দল থেকে তাকে কী দায়িত্ব দেয়া হয়, সেদিকে তাকিয়ে সবাই।

খালেদা জিয়ার সরকার আমলে মন্ত্রী ছিলেন মির্জা আব্বাস। এবার ঢাকা-৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাকে মন্ত্রী করা হবে এমন আলোচনা জোরালো ছিল। কিন্তু মন্ত্রীদের তালিকায় তার নেই। তবে তার অনুসারি হাবিবুর রশিদ হাবিবকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এ এস এম কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া। এবারের নির্বাচনে তিনি বিএনপির টিকিটে ভোটে লড়েছেন। বিজয় এনছেনও। ড. রেজা কিবরিয়া তার বাবার মতো অর্থমন্ত্রী হতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন ছিল। কিন্তু মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণের সময় তার নাম ডাকা হয়নি।

এবারের নির্বাচনের প্রার্থিতা ঘোষণার বহু আগেই থেকেই নানা কারণে আলোচনায় ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান। তিনি দলের মনোনয়ন পাবেন কি না, এ নিয়ে ছিল বড় সংশয়। অবশেষে ফজলুর রহমানকে কিশোরগঞ্জ-৪ আসন থেকে প্রার্থী করে বিএনপি, বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ীও হয়েছেন।

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই জোর গুঞ্জন চলছিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ফজলুর রহমান। কিন্তু আদতে তিনি কোনো মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্ব পাননি।

এছাড়াও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আলোচনায় থাকা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. ওসমান ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, আমানুল্লাহ আমান, শামসুজ্জামান দুদু ও লুৎফুজ্জামান বাবরও মন্ত্রিত্ব পাননি। তারা প্রত্যেকেই আলোচনায় ছিলেন।

এদের মধ্যে নজরুল ইসলাম খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ওসমান ফারুক রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় আছেন। আবার এদের মধ্য থেকে যে কেউ জাতীয় সংসদের স্পিকার হতে পারেন বলেও চাউর আছে।

অন্যদিকে তরুণ তুর্কীদের মধ্যে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন বলে শোনা গিয়েছিল। এছাড়া সেলিম ভূঁইয়া, আজিজুল বারী হেলাল, হুম্মম কাদের চৌধুরী, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন অপু প্রমুখও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় নেই।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ পড়েন নতুন সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়েন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর আগে সকাল ১০টায় প্রথমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পড়েন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটের এমপিদের শপথ পড়ান সিইসি।

আপন দেশ/এবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়