ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক এবং এবারের নির্বাচনে দলটির একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী। ফলে সংসদে দলটির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে একাই শপথ নেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শপথের জন্য ডাক পান সাকি। বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে জয় পান তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে নিজ দলের ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত প্রার্থী মো. মহসীন।
জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক পথচলা রাজপথকেন্দ্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের সময় থেকেই তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা শুরু। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনে যুক্ত হন এবং ১৯৯৮ সালে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন।
ছাত্র রাজনীতি শেষে শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১৬ সালে সংগঠনের বিশেষ সম্মেলনে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক নির্বাচিত হন।
২০১৫ সালে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে জয়ী হতে পারেননি। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে লড়েও পরাজিত হন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর এবারের নির্বাচনে তিনি বিজয়ের মুখ দেখেন।
আরও পড়ুন <<>> ধর্ম মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন ৬ বারের এমপি
ভোটে জয়ের পর সাকি বলেন, এ জয় জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। মানুষের প্রত্যাশা—রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আসুক। বিএনপির সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐক্য গড়ে উঠেছে এবং সেটি সফল হয়েছে।
১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জোনায়েদ সাকি। তার বাবা মো. ফজলুর রহমান ও মা মাসুদা খানম। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই ছাত্র রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
তার স্ত্রী তাসলিমা আখতার একজন খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত নারী সংগঠক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান এবং গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য। এবারের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১২ আসন থেকে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ হাজার ৪৬ ভোট পান।
নির্বাচনের আগে বাঞ্ছারামপুরকে উন্নয়নের নতুন ধাপে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান সাকি। তার উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে করইকান্দি ফেরিঘাট এলাকায় মেঘনা সেতু নির্মাণ এবং নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর সড়ক প্রশস্তকরণ।
রাজপথের আন্দোলন থেকে সংসদ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পেরিয়ে জোনায়েদ সাকি এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে। তার সামনে চ্যালেঞ্জ—আন্দোলনের রাজনীতিকে নীতিনির্ধারণের রাজনীতিতে রূপ দেয়া এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































