Apan Desh | আপন দেশ

‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য’

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৭, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য’

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন

বর্তমানে দেশে বিএনপির পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এ কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমানে বিএনপির জনসমর্থন তুঙ্গে রয়েছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন জরিপ ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এর প্রমাণ। মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় এটি স্পষ্ট যে, সাধারণ মানুষ বিএনপির পক্ষে রায় দিতে উন্মুখ হয়ে আছে।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। তারা ক্রমাগত অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমনকি ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার মতো কাজও করছে তারা। এসব অপকৌশল তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়া হওয়ারই প্রমাণ দেয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। এ বিষয়ে খোদ দলীয় প্রধানের আসন ঢাকা-১৫ তে তার জন্য দাড়িপাল্লার ভোট চাইতে দলটির অন্যতম শীর্ষ আইনজীবী নেতা যেভাবে প্রকাশ্যে টাকা দিয়েছেন, ভোট কেনার চেষ্টা করেছেন, সে ভিডিও ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ভাইরাল হয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাহ্দী আমিন অভিযোগ করেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনি আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে, তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে? নির্বাচনি আচরণবিধির এ লঙ্ঘন একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ। যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে, দুর্নীতির মাধ্যমে, টাকা ছড়িয়ে, দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে? 

মাহ্দী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি-৪ উপস্থাপন করতে চাই, যেখানে উল্লেখ রয়েছে: কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাহার পক্ষ হইতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে উক্ত প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপঢৌকন প্রদান করিতে বা প্রদানের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি প্রদান করিতে পারিবেন না। আচরণবিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি-২৭ অনুযায়ী: এই লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।- The Representation of the People Order, 1972 এর Article 91B (3) মোতাবেক-

(ক) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক (৬) ছয় মাসের কারাদন্ডে অথবা অনধিক ১ (এক) লক্ষ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ডে অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন;  (খ) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত রাজনৈতিক দল অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।’ তিনি বলেন আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দ্রুততম সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, একইভাবে আমরা দেখেছি, খুলনা-১ আসনের সেই দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে নিজ হাতে টাকা বিলাচ্ছেন যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। এভাবেই নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দেশজুড়ে টাকা দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে একটি দল। এটি আপনারা সবাই জানেন, কীভাবে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি, বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর সংগ্রহ করে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, সে দলের একজন শীর্ষ নেতার আসন, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রামে ওই দলের সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪নং থালতামাঝ গ্রামে গতকাল রাতে উক্ত দলের সাজাপ্রাপ্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী কর্মীদের দ্বারা স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দের উপর হামলা চালানো হয়, অনেকেই গুরুতর আহত হন এবং তাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়, যা জনমনে চরম ভীতি সৃষ্টি করেছে। আমরা এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায়, অতি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন তথা রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃংখলাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পরিশেষে বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতান্ত্রকামী জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে, বলেন তিনি।
 
আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়