Apan Desh | আপন দেশ

মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিতে ইমামের বেতন ৪৩ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৬:৪৯, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিতে ইমামের বেতন ৪৩ হাজার টাকা

ছবি: আপন দেশ

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমদের জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫–এ সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে নিয়োগ, ছুটি, আবাসন ও অবসর–পরবর্তী সুবিধা।

সোমবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, খতিব ছাড়া মসজিদে কর্মরত অন্যান্য জনবলের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক বেতন কার্যকর হবে। খতিবদের বেতন চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন–ভাতা নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী সিনিয়র পেশ ইমাম পাবেন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড। পেশ ইমাম পাবেন ষষ্ঠ গ্রেড এবং ইমাম নবম গ্রেডে বেতন পাবেন।

এ ছাড়া প্রধান মুয়াজ্জিন দশম গ্রেড, মুয়াজ্জিন একাদশ গ্রেড, প্রধান খাদিম পঞ্চদশ গ্রেড এবং খাদিম ষোড়শ গ্রেডে বেতন পাবেন।

জাতীয় বেতন স্কেলে পঞ্চম গ্রেডে মূল বেতন শুরু হয় ৪৩ হাজার টাকা থেকে। এর সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা যুক্ত থাকে। এ গ্রেডে উপসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা বেতন পেয়ে থাকেন।

নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের কল্যাণের বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা দেয়ার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন <<>> শুরু হলো প্রবাসীদের ভোট প্রদান

ছুটির ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম করা হয়েছে। কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি নেয়া যাবে। পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি এবং প্রতি ১২ কর্মদিবসে এক দিন অর্জিত ছুটির সুযোগ থাকবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ দেয়া যাবে না। নিয়োগপত্রে বেতন–ভাতা, দায়িত্ব ও চাকরির অন্যান্য শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

নতুন নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের জন্য শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫ জন করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় প্রয়োজনে এ সংখ্যা কম বা বেশি করা যাবে।

চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন।

নীতিমালা বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দিলে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি তা নিষ্পত্তি করবে।

এ নীতিমালা কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়