Apan Desh | আপন দেশ

ট্রান্সকমের সিমিনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

ট্রান্সকমের সিমিনসহ তিন জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি : আপন দেশ

ট্রান্সকম গ্রুপে শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিইও সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে পিবিআই দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত। একইসঙ্গে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় সিমিন রহমান, লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান ও মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি।

একই দিনে অপর একটি মামলায় আসামিপক্ষের অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের করা নারাজি আবেদনও আদালত নামঞ্জুর করেন। বাদীপক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন জানান, চার্জশিট গ্রহণের পর অনুপস্থিত তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আর নারাজি আবেদন খারিজ হওয়ায় বাদীপক্ষ ‘সংক্ষুব্ধ’ এবং এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিভিশন করা হবে।

বাদীপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মোসলেহ উদ্দিন জসিম, মনির হোসেন ও আমিনুল হক। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শাহাবুদ্দিন মোল্লা সবুজ, খোরশেদ আলম, ঢাকা বারের সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহসীন মিয়া, ইকবাল হোসেনসহ ২০–২৫ জন আইনজীবী।

গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে বলা হয়, ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের ভাইবোনকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে গোপনে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার নিজের নামে হস্তান্তর করেন সিমিন রহমান।

এ ঘটনায় তার সঙ্গে পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক, মো. সামসুজ্জামান পাটোয়ারী ও লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমানকে অভিযুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন <<>> হাইকোর্টেও ‘সুখবর’ মিলেনি আহসান মুন্সীর

২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গুলশান থানায় মামলা করেন প্রয়াত লতিফুর রহমানের মেয়ে শাযরেহ হক। অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় এক বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দেখিয়ে সিমিন রহমানকে ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার হস্তান্তর দেখানো হয়। বাকি শেয়ার ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও মেয়ে শাযরেহ হককে ৪ হাজার ৭২০টি করে দেয়া হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ থাকে।

কিন্তু বাদীপক্ষ দাবি করে, ওই তারিখে কোনো বোর্ড মিটিং হয়নি। হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হলেও তার স্বাক্ষর ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমনকি হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও তদন্তে জানা যায়, তিনি ওই সময় কুমিল্লায় ছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, বোর্ড মিটিং সংক্রান্ত কোনো নোটিশ, ডাকযোগে চিঠি বা ইমেইল পাওয়া যায়নি। মিটিংয়ের নথি চাইলে কোম্পানির বর্তমান পরিচালকও কোনো কাগজ উপস্থাপন করতে পারেননি। এসব তথ্যকে কেন্দ্র করে তদন্তে জালিয়াতির বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয় এবং চার্জশিট দাখিল করা হয়।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়