Apan Desh | আপন দেশ

জাতীয় পথশিশু দিবস আজ

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ২ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ০৯:৩৩, ২ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় পথশিশু দিবস আজ

ছবি : সংগৃহীত

আজ ০২ অক্টোবর (শুক্রবার) জাতীয় পথশিশু দিবস। পথশিশু বা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে প্রতি বছর এদিন দিবসটি পালন করা হয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে রয়েছে হাজার হাজার পথশিশু। পথই তাদের আশ্রয়। দিন আর রাত তাদের পথেই কাটে।

পথশিশুরা স্কুলে যায় না বরং এর পরিবর্তে রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে বা অন্য কাজ করে। এর কারণ তাদের বাবা-মা কাজ করতে অক্ষম বা তাদের উপার্জন অতি সামান্য, যা তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য যথেষ্ট নয়।

ধারণা করা হয় যে, বাংলাদেশে ছয় লাখের বেশি পথশিশু বসবাস করছে এবং এদের ৭৫ শতাংশই রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে। মানব উন্নয়ন সূচকে ১৩০তম স্থানে থাকা একটি দেশ। যেখানে জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে সেখানে এ শিশুরা সামাজিক স্তরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে।

দেশের জনসংখ্যা এখন বেড়েছে, আর রাস্তার শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৪০ লাখ জনে। রাস্তার শিশুদের বসবাসের জায়গা নেই, বা এমনকি ঘুমও নেই। 

বাংলাদেশের অনেক রাস্তার ছেলেমেয়ে কম বয়সে মারা যায়, তারা প্রয়োজনীয় যত্নও পাচ্ছেন না । প্রতি বছর জলবাহিত রোগে ১ লাখ ১০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। বাংলাদেশের রাস্তার শিশুরা স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে অক্ষম, যা অনেক সময় তাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপযুক্ত নয় এমন খাবার খেতে বাধ্য করে।

বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রা যতই এগিয়ে চলুক, সমাজের একটি বড় অংশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের পথশিশুরা সে অংশের একটি বড় উদাহরণ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুকে দেখা যায় রাস্তায় জীবনযাপন করতে। 

আরও পড়ুন<<>>আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস আজ

তাদের অনেকেই জন্মের পর থেকেই বঞ্চনা, দারিদ্র্য, সহিংসতা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে বেড়ে ওঠে। এ শিশুদের শিক্ষা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে লিডো (LEEDO) ‘লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ বাংলাদেশের পথশিশুদের জন্য একটি আশার আলো হিসেবে কাজ করছে।

পথশিশুদের জীবন অত্যন্ত কঠিন ও অনিরাপদ। তারা প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থেকে যায়, ফলে অশিক্ষা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও অন্ধকার করে তোলে। অনেক সময় তারা অল্প বয়সেই বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই তাদের জন্য এমন একটি সহায়ক পরিবেশ প্রয়োজন, যেখানে তারা শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারে।

লিডো এ প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করে দীর্ঘদিন ধরে পথশিশুদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংস্থাটি মূলত পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মতো সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মানবসম্পদে রূপান্তর করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হয়। 

লিডোর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি হলো শেল্টার হোম বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র। এখানে পথশিশুরা নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পায়। আশ্রয়কেন্দ্রে তাদের জন্য থাকা-খাওয়া, পোশাক এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা থাকে। এ নিরাপদ পরিবেশ শিশুদের জীবনে একটি স্থিতিশীলতা নিয়ে আসে, যা তাদের শিক্ষা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়