Apan Desh | আপন দেশ

সাগর উত্তাল, কমেছে গ্যাস সরবরাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ২০:০০, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাগর উত্তাল, কমেছে গ্যাস সরবরাহ

ফাইল ছবি, আপন দেশ

বঙ্গোপসাগরে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাস কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বার্তায় এ তথ্য জানায় পেট্রোবাংলা।

বার্তায় বলা হয়, কক্সবাজারের মহেশখালী এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আমদানিকৃত এলএনজি কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর (ট্রান্সফার) প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে এলএনজি এবং সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে।
 
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৯১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ ছিল এক হাজার ৫৮৮ এমএমসিএফডি এবং আরএলএনজি ছিল এক হাজার ৩ এমএমসিএফডি।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, মোট গ্যাস সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩০১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন সামান্য বেড়ে এক হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি হলেও এলএনজি সরবরাহ নেমে এসেছে ৬৮৬ এমএমসিএফডিতে। 

আরও পড়ুন<<>>৭৬ বিশ্ববিদ্যালয় পাচ্ছে ৩০ হাজারের বেশি গবেষণা উপকরণ

হিসাব অনুযায়ী, তিন দিনের ব্যবধানে মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২৯০ এমএমসিএফডি। একই সময়ে আরএলএনজি সরবরাহ কমেছে ৩১৭ এমএমসিএফডি, যা প্রায় ৩২ শতাংশ হ্রাসের সমান। তবে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২৭ এমএমসিএফডি বেড়েছে, ফলে সামগ্রিক ঘাটতির একটি অংশ কিছুটা সমন্বয় হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এলএনজি খালাস কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে।

এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও এখন ১৬০২ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। মজুত কমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত কমে আসছে উৎপাদন। উদ্বেগের বিষয় বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার উৎপাদন কমে যাওয়া। ফিল্ডটি থেকে এখনও সাড়ে ৪৫ শতাংশের মতো গ্যাস যোগান আসছে। আর কনডেনসেট পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৬৮ শতাংশ। এক সময়ে ১৩৫০ মিলিয়নের মতো উৎপাদন দিতো, ২৩ সেপ্টেম্বর ৭১২ মিলিয়নে নেমে গেছে। মজুদ কমে আসায় দ্রুতই কমে যাচ্ছে উৎপাদন।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৮টি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত লোডের পরিমাণ রয়েছে ৫ হাজার ৩৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট (দৈনিক)। মতান্তরে ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিবেচনা করা হয়। শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়