Apan Desh | আপন দেশ

পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে এক-আইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৯:২২, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৯:২২, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরিচয়পত্রের পরিবর্তে আসছে এক-আইডি

ফাইল ছবি, আপন দেশ

দেশের সব নাগরিককে জন্মের পরই একক পরিচয়পত্র দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেনটিটি বা এক-আইডি নামের এ পরিচয়পত্রটি নাগরিকের সারা জীবনের জন্য স্থায়ী ও স্বতন্ত্র পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সরকারি অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ পরিচয়পত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাকসেস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বা ডি-স্টার নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। 

২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভূঞা।

বর্তমানে দেশে জন্মের পর শিশুদের জন্মনিবন্ধন সনদ দেয়া হয়। ১৮ বছর বয়স হলে দেয়া হয় জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি। তবে নতুন ব্যবস্থায় বয়সের কোনো সীমা থাকবে না। জন্মের পরই নাগরিককে একক পরিচয়পত্র দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিচয়পত্র চালু হলে সরকারি বিভিন্ন দফতরে নাগরিককে একই তথ্য বারবার দেয়ার প্রয়োজন হবে না।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একক পরিচয়পত্র চালু হলে ধীরে ধীরে বিদ্যমান বিভিন্ন কার্ডের কার্যকারিতা এ কার্ডের মধ্যে একীভূত করার পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া সেবাও ভবিষ্যতে এক-আইডির মাধ্যমে দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

আরও পড়ুন<<>>সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন মির্জা আব্বাস

জানা গেছে, একক পরিচয়পত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, এস্তোনিয়া ও ভারতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ নতুন এ ব্যবস্থার ধারণাকে একজন নাগরিক, একটি ডিজিটাল পরিচয়, একটি ওয়ালেট হিসেবে তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ একজন নাগরিকের একটি পরিচয়পত্র থাকবে, যা হবে তার ডিজিটাল পরিচয় এবং এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধাও পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নতুন পরিচয়পত্রে কী কী তথ্য থাকবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ১৮ কোটি নাগরিকের জন্য পরিচয়পত্র তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণ করা হবে ২০ কোটি।

জানা গেছে, প্রতিটি পলিকার্বোনেট চিপ কার্ড উৎপাদন ও মুদ্রণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই মার্কিন ডলার, যা বর্তমান হিসাবে প্রায় ২৪৬ টাকা। এর বাইরে প্রতিটি কার্ড বিতরণ ও সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে এক মার্কিন ডলার বা প্রায় ১২৩ টাকা। অর্থাৎ উৎপাদন, মুদ্রণ, বিতরণ ও সরবরাহ মিলিয়ে প্রতিটি কার্ডে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৬৯ টাকা।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৭ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে আসবে একহাজার হাজার ৫৩০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় হবে কার্ড উৎপাদন, মুদ্রণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও বিতরণে। এ খাতে মোট ৭ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কর শনাক্তকরণ নম্বরসহ বিভিন্ন ধরনের পরিচয়পত্র ও নম্বর চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্যভান্ডারের মধ্যে কার্যকর আন্তসংযোগ তৈরি করা গেলে নাগরিকদের একই তথ্য বারবার সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। এতে সরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবাদানের প্রক্রিয়াও আরও সহজ ও কার্যকর হতে পারে।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়