Apan Desh | আপন দেশ

রামিসা হত্যা: সহবন্দীর বুদ্ধিতে ডলারের নাম বলেছেন সোহেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০১:০৮, ২ জুন ২০২৬

রামিসা হত্যা: সহবন্দীর বুদ্ধিতে ডলারের নাম বলেছেন সোহেল

ছবি: আপন দেশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মূল আসামি সোহেল রানার নতুন দাবি তদন্তে ভিত্তিহীন বলে মনে করছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার উদ্দেশে তিনি নতুন করে ডলার নামের আরেক ব্যক্তিকে জড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

সোমবার (০১ জুন) পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির জানান, যেদিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেদিন সোহেল রানাকে জানালার গ্রিল ভেঙে একাই পালিয়ে যেতে আশপাশের অনেক মানুষ দেখেছেন।

তিনি বলেন, কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা থাকে। সেখানে কেউ হয়তো তাকে পরামর্শ দিয়েছে যে অন্য কারো নাম জড়ালে মামলার বিচার প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও বিলম্বিত হতে পারে। তবে ডলারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।
তবে এটা পরিষ্কার, সোহেল রানা মামলা বিলম্বিত করার জন্য কারো পরামর্শ এ কাজ করেছে।

অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারাগারে হয়তো কোনো বন্দি সোহেল রানাকে বুদ্ধি দিয়েছে কারো নাম বললে বিচার প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে। দুষ্টুমির ছলে হোক আর যেভাবে হোক, এরকম বুদ্ধি তাকে কেউ না কেউ দিয়েছে।

সোমবার প্রধান আসামি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, শুধু লাশ কেটেছি। ধর্ষণ করেছে ডলার নামে একজন। আমি পাপ করেছি, আমাকে সেই পাপের শাস্তি দিন।

তিনি বলেন, মেয়েটিকে এনে দিতে পারলে তাকে দুই লাখ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল।

একই দিন ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক মাসরুর সালেকীন। সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য পরদিন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই দিনই মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন <<>> শিশু রামিসা হত্যা: রহস্যের কেন্দ্রে কে এই ‘ডলার’

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত অনুযায়ী, ১৯ মে সকালে শিশু রামিসা বাসা থেকে বের হয়। পরে সোহেল রানা কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সকাল সাড়ে দশটার দিকে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। এক পর্যায়ে ফ্ল্যাটের সামনে তার জুতা পাওয়া যায়।

দরজায় সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ভেতরে তারা শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পান। মাথা পাওয়া যায় একটি বালতির ভেতরে।

এরপর স্বপ্না আক্তারকে সেখানে পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে স্বামীর জড়িত থাকার কথা জানান।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর মরদেহ বিকৃত করা হয় এবং অংশগুলো আলাদা করা হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল রানা পালিয়ে যান।

৯৯৯ এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্বপ্নাকে আটক করা হয়। পরে সোহেল রানাকে ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

শিশু রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারটি পল্লবীর সেকশন এগারো এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়