ছবি : এআই
বাইরে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি, ঘরের ভেতর গুমোট গরম। এ পরিস্থিতিতে অনেকেই এসিই ব্যবহার করেন। কিন্তু এ সামান্য স্বস্তির জন্য আপনি কি বড় ঝুঁকি নিচ্ছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝড়ের সময় এসি চালানো কখনো কখনো বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এ বিপদ শুধু যন্ত্রপাতির ক্ষতি নয়, হতে পারে গুরুতর দুর্ঘটনাও।
গরমে হাঁসফাঁস করা দিনে এসি যেন স্বস্তি দেয়। তবে আবহাওয়া বদলে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। অনেকেই ভাবেন, বৃষ্টি হচ্ছে মানেই এসি চালানো নিরাপদ। বাস্তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়ের সময় বজ্রপাত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা কখনো কখনো সরাসরি বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে আপনার বাসার যন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে। এ অতিরিক্ত শক্তি এসির সার্কিটে ঢুকে পড়লে মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে পুরো মেশিন।
অনেকে মনে করেন, সার্কিট ব্রেকার থাকলে আর ভয় নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বজ্রপাতের শক্তি এত দ্রুত প্রবাহিত হয় যে অনেক সময় ব্রেকার কাজ করার আগেই ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। ফলে এটি পুরোপুরি সুরক্ষা দিতে পারে না।
বাড়িতে আর্থিং থাকলেও শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। বজ্রপাতের তীব্রতা বেশি হলে আর্থিং সিস্টেমও ব্যর্থ হতে পারে। তাই শুধু এ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করাটা ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুন <<>> বিশ্ব টুনা দিবস আজ
ঝড়ের সময় বাইরে থাকা এসির আউটডোর ইউনিটে পানি ঢুকে গেলে শর্ট সার্কিট, স্পার্ক এমনকি আগুন লাগার ঘটনাও ঘটতে পারে। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিতে এ ঝুঁকি আরও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা ঝড়ের সময় নিরাপদে থাকতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এগুলো হলো:
১. ঝড় শুরু হলেই এসি বন্ধ করে দিন
২. বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকলে প্লাগ বা মেইন সুইচ বন্ধ রাখুন
৩. সার্জ প্রোটেক্টর ব্যবহার করুন
৪. ভেজা অবস্থায় কখনো এসি চালাবেন না
৫. নিয়মিত সার্ভিসিং করান
৬. ঝড়-বৃষ্টির দিনে এসি চালানো সাময়িক স্বস্তি দিলেও, একটু অসতর্কতায় বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত।
আপন দেশ/এসএস
































