Apan Desh | আপন দেশ

সেজেছে চারুকলা, অপেক্ষা নববর্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২২:১৪, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সেজেছে চারুকলা, অপেক্ষা নববর্ষের

ছবি: আপন দেশ

পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে দিন-রাত এক করে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থী-শিল্পীরা। রং, কাগজ, বাঁশ আর কাপড়ে ফুটে উঠছে নতুন বছরের উচ্ছ্বাস, প্রত্যাশা আর সাংস্কৃতিক চেতনার বহুমাত্রিক প্রকাশ।

নতুন বছর বরণ করে নিতে এবারের শোভাযাত্রার নাম দেয়া হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এ ভাবনা ধারণ করেই নির্মিত হচ্ছে শোভাযাত্রার প্রতিটি উপকরণ। লোকজ ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা সামনে রেখে এবার পাঁচটি প্রধান মোটিফ বিশেষভাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

চারুকলা প্রাঙ্গণে ঢুকতেই চোখে পড়ে এক জীবন্ত কর্মযজ্ঞ। কোথাও বিশাল মুখোশে রঙের প্রলেপ দিচ্ছেন কেউ, কোথাও বাঁশের কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে, আবার কোথাও কাগজ-কাপড়ের সূক্ষ্ম কাজে শেষ ছোঁয়া দিচ্ছেন শিল্পীরা। বাঘ, পাখি, মাছসহ নানা প্রতীকী মোটিফ যেন ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে তাদের তুলির আঁচড়ে।

এবারের আয়োজনে পাঁচটি প্রধান মোটিফে একসঙ্গে ধরা দিয়েছে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সময়ের বার্তা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় আকর্ষণ বিশালাকৃতির লাল ঝুঁটিওয়ালা মোরগ। পাশাপাশি রংতুলির আঁচড়ে বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পীরা। পটচিত্র বাংলাদেশ, গাজীরপট, পটচিত্র আকবর, পটচিত্র বনবিবি, পটচিত্র বেহুলা নামে ভিন্ন ভিন্ন পটচিত্র এঁকেছেন শিল্পীরা। 

আরও পড়ুন<<>>দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর

চারুকলার সাবেক শিক্ষার্থী শিল্পী হোসাইন আহমেদ সহজভাবে বলেন, লাল ঝুঁটিওয়ালা মোরগটা আসলে নতুন ভোর আর জেগে ওঠার প্রতীক। অন্ধকার পেরিয়ে আলোর দিকে যাওয়ার একটা বার্তা দেয় এটা। দোতারা আমাদের লোকসংগীতের অংশ, এটা দেখলে নিজের সংস্কৃতি আর শিকড়ের কথা মনে পড়ে। একই সঙ্গে বাউল আর লোকশিল্পীদের যে প্রাপ্য সম্মান, সেটার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

মোটিফগুলোর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে চারুকলা অনুষদের ডিন ও নববর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, এবারের শোভাযাত্রা নতুন সূচনা, ঐতিহ্য এবং সামাজিক প্রত্যাশা একসূত্রে গেঁথে উপস্থাপন করছে। তার মতে, মোরগের পেছনে যুক্ত লাল সূর্য নতুন দিনের আশা ও গণতান্ত্রিক পুনরুত্থানের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করে।

চারুকলার এ সৃজনশীল ব্যস্ততার পাশাপাশি বকুলতলায় বসেছে সাংস্কৃতিক আসর। সেখানে গানের সুর, কবিতা আবৃত্তি আর আড্ডায় জমে উঠেছে উৎসবের আবহ। লোকগান ও বৈশাখী সুরে মুখর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।

এ আয়োজন দেখতে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ ঘুরে ঘুরে মোটিফ দেখছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন। ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের এ উচ্ছ্বাসে যোগ দিয়েছে দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি।

শ্যামলী জাহান নামে এক দর্শনার্থী বলেন, চারুকলার এ আয়োজনের জন্য সারাবছর অপেক্ষা করি। এ আয়োজনে আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে অংশগ্রহণ করতে পারি। সবাই নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। যে দেখেন- সবাই যেভাবে এখানে নতুন বছরের আগমন গ্রহণ করতে উদগ্রীব হয়ে আছে, তা আর অন্য কোথাও পাবেন না।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ও আমরা নিজেরাও যতটুকু সম্ভব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ। নিরলসভাবে এখানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা রাতদিন কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমাদের কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।

আপন দেশ/এসআর
 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়