Apan Desh | আপন দেশ

শব্দের মারপ্যাঁচে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে: পার্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ২১:২১, ৫ এপ্রিল ২০২৬

শব্দের মারপ্যাঁচে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে: পার্থ

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ

সংস্কার আর সংশোধনের মধ্যে খুব সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। আমরা চাই জুলাই সনদের বিষয়গুলো সংবিধানের ভেতর থেকেই আসুক এবং সাংবিধানিক রীতিনীতি মেনেই আসুক। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে অন্য কিছুর পায়তারা করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে শব্দের মারপ্যাঁচ দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারি জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।

রোববার (০৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের অষ্টম দিনে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের আনা এক মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

পার্থ বলেন, আইন না বুঝে গণভোট বা সংবিধান নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এসময় তিনি একটি রূপক গল্প শোনান। তিনি বলেন, এক আইন ছিল—অতিথি পাখি মারলে ১০ বছর জেল। এখন একজনের বাড়ির মুরগি প্রতিবেশী জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। সে প্রতিবেশী মামলা ঠুকে দিল ১০ বছরের জেলের দাবিতে, কারণ তার যুক্তি—মুরগিও তো এক প্রকার পাখি আর অন্যের বাড়িতে সে ছিল অতিথি! যারা আইন বোঝেন না, তাদের এভাবে বারবার বোঝানো বৃথা। 

আরও পড়ুন<<>>সরকারি চাকরিতে প্রবেশের নতুন বয়সসীমা নির্ধারণ

জুলাইয়ের টেন্ডার একমাত্র বিরোধী দলই নিয়েছে, বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের এ সংসদ। তাই জুলাই যোদ্ধাদের দাবির বিষয়ে সরকারকে আরও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো ‘সংস্কার পরিষদ’ নয়, বরং সংবিধানের রীতিনীতি মেনেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। 

বক্তব্যের শুরুতে পার্থ বলেন, আমাদের জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে ডিল করার জন্য আরও অনেক ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। তারা আহত হয়েছেন, অনেকে নিহত হয়েছেন। তারা মূল্য দিয়েছেন বলেই আমরা আজ এখানে আছি। তাই আমাদের সহ্য ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে একটি কোয়াজাই কনস্টিটিউশনাল (আধা-সাংবিধানিক) পরিস্থিতি ছিল। কারণ আমাদের সংবিধানে বলা নেই যে প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গেলে কী করতে হবে। সংবিধানে গ্যাপ ছিল বলেই অনেক কিছু করতে হয়েছে। কিন্তু এখন সে পরিস্থিতি নেই।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে পার্থ বলেন, আপনারাই একমাত্র জুলাইয়ের টেন্ডার নিয়েছেন, বিষয়টি এমন নয়। আমরা গণভোট মানি কারণ আমরা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। আমাদের সংসদ নেতাও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলেছেন। ২১৭টি সিট নিয়ে আমরা এ সংসদে এসেছি আইন পরিবর্তন ও সংশোধনের জন্য। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়েই আমরা সংবিধানের ভেতর থেকে পরিবর্তন করব।

তিনি আরও বলেন, যে সংবিধান জনগণের কথা বলে না, জনগণ সে সংবিধান ছুঁড়ে ফেলে দেবে। আমরা জুলাই সনদের ভিত্তিতে গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে চাই এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এ পথ চলতে চাই।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়