ছবি : আপন দেশ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয়, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সে অবস্থান বজায় রাখবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি সদ্য স্বাধীন ভারত একটি নতুন সংবিধান গ্রহণ করে এবং দেশটিকে সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা দেয়। সে সঙ্গে ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সমতা ও মর্যাদার আদর্শের প্রতি ভারতের জনগণ অঙ্গীকারবদ্ধ হয়।
তিনি বলেন, গত ৭৬ বছরে ভারত একটি দরিদ্র দেশ থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র এবং অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ভারত একটি আধুনিক ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও ভারতের অবদান রয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এ দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যৌথ ত্যাগের ইতিহাসের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলার প্রতি অভিন্ন অনুরাগ দুই দেশের জনগণকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের রচনাসহ নৃত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনকে আরও দৃঢ় করেছে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্তি ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ার ফলে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আরও গভীর হয়েছে। এর ফলে সমাজ, জনগণ ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সম্পর্ক শক্তিশালী হয়েছে।
আরও পড়ুন <<>> কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে রাখবে না ইসি
তিনি জানান, ভারত থেকে বাংলাদেশে উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন এবং ভারত ও নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন আঞ্চলিক জ্বালানি সংযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। এসব উদ্যোগ আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে এগিয়ে নিচ্ছে।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের সরবরাহ শৃঙ্খল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতকে শক্তিশালী করছে। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নির্ভরশীলতার সুফল স্পষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ সাফল্যগুলো ভবিষ্যতের জন্য আরও দূরদর্শী ও প্রস্তুত সহযোগিতার পথ তৈরি করছে। এমন অংশীদারত্বই প্রয়োজন, যা পারস্পরিক স্বার্থ, সুবিধা ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে টেকসইভাবে এগিয়ে যাবে।
প্রণয় ভার্মা বলেন, তরুণ, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশ দুটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সংহতি জোরদারে দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
তিনি আরও বলেন, যৌথভাবে আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ও জ্বালানি করিডোর গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন প্রণয় ভার্মা। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনগণের শান্তি, সমৃদ্ধি ও সফল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































