Apan Desh | আপন দেশ

আন্তর্জাতিক চিতাবাঘ দিবস আজ, বিলুপ্তির পথে বিশ্বের দ্রুততম প্রাণী

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক চিতাবাঘ দিবস আজ, বিলুপ্তির পথে বিশ্বের দ্রুততম প্রাণী

আজ ৪ ডিসেম্বর। বিশ্বজুড়ে আজ আন্তর্জাতিক চিতাবাঘ দিবস পালন করা হয়। চিতা কনজারভেশন ফান্ড (সিসিএফ) এ বিশেষ দিনটি পালন করে থাকে। চিতাবাঘ সংরক্ষণ নিয়ে যারা কাজ করেন, তারা সকলে এ উদ্যোগে যুক্ত। ২০১০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক চিতাবাঘ দিবস পালন শুরু হয়।

এ তারিখটি বেছে নেয়ার বিশেষ কারণ আছে। বিজ্ঞানীরা খায়াম নামের একটি চিতাশাবককে নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ১৯৭৭ সালে খায়ামকে যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন চিড়িয়াখানা থেকে নামিবিয়ায় আনা হয়েছিল। গবেষণার কাজে তাকে ব্যবহার করা হয়। ৪ ডিসেম্বর ছিল সে চিতাবাঘ খায়ামের জন্মদিন। আর তাই সারাবিশ্বের সংরক্ষণবাদীরা এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক চিতাবাঘ দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন।

চিতা কনজারভেশন ফান্ডের তথ্য মতে, গত ৫০ বছর ধরে আফ্রিকার বিভিন্ন বনাঞ্চলে চিতাবাঘের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমে যাচ্ছে। বিশ্বের দ্রুততম স্থলজ প্রাণী চিতাবাঘ একদিন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে যেতে পারে। আর তাই চিতাবাঘকে বাঁচানোর জন্য কৃত্রিম প্রজননের প্রয়োজন হতে পারে।

গত ৩৫ বছর ধরে মার্কিন প্রাণিবিজ্ঞানী ও চিতাবাঘ বিশেষজ্ঞ লরি মার্কার নামিবিয়ায় চিতাবাঘের একটি স্পার্ম ব্যাংকে নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছেন। যদিও তিনি আশা করেন, বন্য প্রাণী সংরক্ষণকারীদের যেন ভবিষ্যতে এই ব্যাংক কখনো ব্যবহার করতে না হয়।

বিজ্ঞানী মার্কার জানিয়েছেন, চিতাবাঘের মাত্র ৩৩টি দল রয়েছে। আফ্রিকাজুড়ে ছোট ছোট এলাকায় ছড়িয়ে থাকা এসব দলের সদস্যসংখ্যা এক শর চেয়ে কম। চিতাবাঘের আবাস ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মানুষ-বন্য প্রাণী সংঘাত ও অবৈধ প্রাণীর ব্যবসার কারণে বিপন্ন হচ্ছে চিতাবাঘ। দল সংকুচিত ও বিচ্ছিন্ন দলে থাকার কারণে চিতাবাঘের জিন পুল ছোট হয়ে আসছে। ছোট ছোট জনসংখ্যার মধ্যে ক্রমাগত প্রজনন ঘটছে, যার ফলে তাদের প্রজনন হারে প্রভাব পড়ছে।

গত অর্ধশতাব্দীতে বিশ্বব্যাপী চিতাবাঘের সংখ্যা ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ বাসস্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ১০ থেকে ১২ হাজার বছর আগে শেষ বরফযুগের শেষে চিতাবাঘ বিলুপ্তির হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছিল। তখন প্রথম জিন পুলের আকার হ্রাস পায়। বিজ্ঞানী মার্কার বলেন, জেনেটিক বৈচিত্র্যের অভাব ও সে সঙ্গে চিতাবাঘের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অস্বাভাবিক শুক্রাণু থাকার কারণে ভবিষ্যতে তাদের রক্ষায় স্পার্ম ব্যাংকের প্রয়োজন হতে পারে।

বন্য প্রাণীর জগতে চিতাবাঘের জন্য শুক্রাণু সংরক্ষণ কোনো নতুন কৌশল নয়। এটি এমন একটি কৌশল, যা সংরক্ষণকারীরা হাতি, গন্ডার, হরিণ, বিড়াল, পাখি ও অন্যান্য প্রজাতির জন্য তৈরি করেছেন। বিজ্ঞানী মার্কার চিতাবাঘের শুক্রাণু সংগ্রহের জন্য চিতাবাঘের পেছনে ঘোরেন না। সুবিধামতো নমুনা সংগ্রহ করেন। নামিবিয়ায় চিতাবাঘের প্রধান বিপদ হলো কৃষকদের আক্রমণ। কৃষকেরা চিতাবাঘকে তাঁদের গবাদিপশুর জন্য হুমকি মনে করেন। বিজ্ঞানী মার্কারের দল আহত চিতাবাঘের চিকিৎসা করার সময় নমুনা সংগ্রহ করে। মৃত চিতাবাঘ থেকেও শুক্রাণুর নমুনা নেয় তারা। 

বিজ্ঞানী মার্কার বলেন, প্রতিটি চিতাবাঘ আসলে খুব কমসংখ্যক জিনের একটি অনন্য মিশ্রণ। আমরা যতটা সম্ভব প্রতিটি প্রাণীর নমুনা ব্যাংকে রাখার চেষ্টা করছি।

আপন দেশ/এমবি

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

কোদাল দিয়ে কুপিয়ে ৩ জনকে হত্যা মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ব্যবস্থার ঘোষণা প্রস্তুতি শেষ হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: মির্জা ফখরুল হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু আগামী সপ্তাহ থেকে লোডশেডিং কমে আসবে : বিদ্যুৎমন্ত্রী বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষকে ভালো রাখা: প্রধানমন্ত্রী অপতথ্য রোধে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করবে : তথ্যমন্ত্রী জাপানে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প শার্শায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিপীড়িতদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : আইনমন্ত্রী আমির হামজার আগাম জামিন জামালপুরে গাছচাপায় মা ও দুই মেয়ের মৃত্যু পাঁচ অঞ্চলে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস সৌদি আরবে ৪ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু