Apan Desh | আপন দেশ

সকালের বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানীর সড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩৯, ১১ মে ২০২৪

আপডেট: ১১:৪৮, ১১ মে ২০২৪

সকালের বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানীর সড়ক

রাজধানীতে শনিবার (১১ মে) সকালে আকাশ কালো করে নামে বজ্রসহ ঝড়ো বৃষ্টি। মুষলধারে হওয়া এ বৃষ্টিতে নগরের ব্যস্ত অনেক সড়ক পানিতে ডুবে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন কাজে বেরোনো মানুষজন।

ঝুম বৃষ্টি চলে টানা এক থেকে দেড় ঘণ্টা। আর এতেই বাধে বিপত্তি। বৃষ্টিতে রাজধানীর মিরপুর ১৪, ১০, ১১, ১২ ও ২ নম্বর এলাকার রাস্তায় পানি জমেছে। এ ছাড়া কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, কালশী রোড, বারিধারা, ভাষানটেক, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, নয়াপল্টন, তেজগাঁও, মালিবাগসহ অনেক এলাকার সড়কে দেখা গেছে জলাবদ্ধতা। এতে করে সকালে অফিস বা যে কোনো কাজে বেরোনো মানুষ পরে বিপত্তিতে। একদিকে বৃষ্টি, আবার রাস্তায় পানি; দুইয়ে নাকাল নগরবাসী। 

ঢাকায় সকালে ৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আর এটি এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।   

মিরপুরের কাজীপাড়ায় সড়কে পানি উঠে যান চলাচল ব্যাহত হয়। রিকশাগুলো প্রায় অর্ধেক পানির নিচে ডুবে যেতে দেখা গেছে। স্কুলগামী শিশু ও কর্মস্থলে যাওয়া মানুষজন চরম দুর্ভোগে পড়েন এ সময়।

এ ছাড়া হাতিরঝিলসহ ঢাকার একাধিক সড়ক ডুবে যেতে দেখা যায়। অবশ্য বৃষ্টির কারণে নগরজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামীরা। এ ছাড়া বিশেষ করে সকালে জরুরি কাজে যারা ঘরের বাইরে বেরিয়েছেন তাদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। 

রাজধানীসহ দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। 

এদিকে আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল মোংলায়। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন <> রাজধানী ঝুম বৃষ্টিতে ভিজল সকালেই

হাতিরঝিলে অফিসগামী রুহুল আমিন বলেন, যেতে হবে পল্টন। বৃষ্টির একটু বিরতিতে বাসা থেকে বেরিয়েছি। কিন্তু নানা জায়গায় পানি জমে গিয়েছে। জুতা জোড়া ভিজে গেছে। অনেকটা ছাতায় মানছে না বৃষ্টি। এমন দিনে বিশেষ কাজ না থাকলে বাসায় থাকতেই মন চাই।

বেসরকারি চাকরিজীবী আবু তাহের টোটন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আকাশ অন্ধকার। এরপরই  নামে ঝুম বৃষ্টি। এজন্য বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশে বের হতে পারিনি। বৃষ্টি থামার পর বেরিয়েছি। কিন্তু ছাতা সুরক্ষা দিতে পারছে না। অনেক জায়গায় রাস্তা ডুবে গেছে। 

মোটরসাইকেলে করে মিরপুর থেকে আসা খায়রুল আলম বলেন,  অল্প কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত বেগম রোকেয়া সরণিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পূর্ব কাজীপাড়া থেকে বের হয়ে মেট্রো স্টেশনের নিচে আসার আগে থেকে রাস্তায় হাঁটু পানি জমে গিয়েছিল। মেইন রোডের আটকে থাকা পানির পরিমাণ আরও বেশি। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অর্ধেকেরও বেশি ডুবে গিয়েছিল। গত বছর বৃষ্টির পর বেগম রোকেয়া সরণির কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়া অংশে জলাবদ্ধতার ঝামেলা খুব একটা না থাকলেও এ বছর আবারো পুরোনো রূপে ফিরেছে।

চাকরিজীবী কালশী এলাকার বাসিন্দা তানজিদ ভুঁইয়া বলেন, বৃষ্টির মধ্যে সকাল ৮টার সময় বাসা থেকে বের হয়েছি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কালশী রোডে পানি জমে গেছে। এই রোডে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পানি জমে আছে। আমিসহ অনেকেই অফিসে যেতে পারছেন না। পানি জমে থাকার কারণে এখানে যান চলাচল ও করতে পারছে না। হেঁটে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু কালশী রোডে কোমর সমান পানি। আবার কোথাও কোথাও বুক সমান পানি জমেছে।

সাংবাদিক আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ফখরুদ্দিন আহমেদ টিপু বলেন, সকাল সাড়ে ৮টায় আমার অফিসে যাওয়ার কথা ছিল। বৃষ্টির কারণে যেতে পরিনি। আমাদের এলাকার বৃষ্টিতে পানি জমলেও কখনো আমার বাসার সামনে পানি ওঠে না। কিন্তু আজ এখানেও পানি জমেছে। প্রায় দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতেই এই অবস্থা। আজ আমার অফিস যেতে দেরি হবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা বেড়ে যাওয়া, আবার কমে গরম বেড়ে যাওয়া এখনকার সময়ের বৈশিষ্ট্য। এটা প্রাক্‌-মৌসুমি বায়ুর সময়। এ সময়টিতে এমন হয়।

তিনি বলেন, এমন বৃষ্টি এবং মোটামুটি সহনীয় তাপমাত্রা আগামী সোমবার পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা আবার খানিকটা বাড়তে পারে।

গত এপ্রিল মাসের প্রথম দিন থেকে পুরো মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। চলতি মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত তাপপ্রবাহ ছিল। তবে মাসের দ্বিতীয় দিন থেকে বৃষ্টি শুরু হলে তাপপ্রবাহের এলাকা কমতে থাকে। তিন দিন হলো দেশের কোথাও আর তাপপ্রবাহ নেই। 

আপন দেশ/এমআর
 

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়