Apan Desh | আপন দেশ

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২৮, ৭ অক্টোবর ২০২৩

আপডেট: ১১:২৯, ৭ অক্টোবর ২০২৩

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরর তৃতীয় টার্মিনালের একাংশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (৭ অক্টোবর) সকালে উদ্বোধন করেন তিনি।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে পুরো তৃতীয় টার্মিনাল ঘুরে দেখেন। এ সময় চেকিং পয়েন্ট, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, প্রি-বোর্ডিং সিকিউরিটি জোন, বোর্ডিং ব্রিজ ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ যজ্ঞের স্থিরচিত্র পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তাকে ব্রিফ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (বেবিচক) এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান।

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপবিষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় এ অনুষ্ঠান। এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ঢাদসিক) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (বেবিচক) এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি শফিউল আজিমসহ সংশ্লিষ্টরা। উপস্থিত রয়েছেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানরাও। এ ছাড়া, এতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা আছেন।

উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতিতে এই টার্মিনাল থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি এয়ারক্র্যাফট পরীক্ষামূলক চালানো হয়।

থার্ড টার্মিনালের কাজ এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ সফট ওপেনিংয়ের পর আবার শুরু হবে। তবে আজ সফট ওপেনিং হলেও আগামী বছর থেকে অপারেশনে যাবে কর্তৃপক্ষ।

নতুন এই টার্মিনালের নকশা করেছেন সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরসহ অনেক বিখ্যাত স্থাপত্যের স্থপতি রোহানি বাহারিন।এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামের (এডিসি) মাধ্যমে জাপানের মিৎসুবিশি ও ফুজিতা এবং কোরিয়ার স্যামসাং এই টার্মিনালের নির্মাণকাজ করছে। 

বেবিচক বলছে, এই টার্মিনাল পুরোদমে চালুর মাধ্যমে দেশের আকাশপথের যাত্রীসেবায় দিনবদল ঘটবে। এর অত্যাধুনিক নানা ব্যবস্থা বিশ্বপরিমণ্ডলে দেশের এভিয়েশন সেবাকে নতুনভাবে তুলে ধরবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছি। উদ্বোধনের আগে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করেছি।’ 

তিনি বলেন, যখন প্রকল্প শুরু হয় তখন করোনা মহামারি এলো।কিন্তু কাজ অব্যাহত ছিল। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (প্রথম পর্যায়) আওতায় শুধু টার্মিনাল ভবন নয়, আমদানি ও রফতানির কার্গো ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। কার্গো কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী মার্চ-এপ্রিলের দিকে কার্গো কমপ্লেক্স ব্যবহার করা যাবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, এখন ক্যালিব্রেশন, ট্রায়ালের পাশাপাশি যারা এগুলো পরিচালনা করবে, তাদের প্রশিক্ষণের পর এটি হস্তান্তর করা হবে। ভালো মানের সেবা দিতে জাপানি ঠিকাদারকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর হলেও নির্মাণ শুরুর তিন বছর নয় মাসেই পুরোপুরি দৃশ্যমান হলো তৃতীয় টার্মিনাল। এই প্রকল্পে ব্যয় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে জাইকা দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা, সরকার দিচ্ছে পাঁচ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন <> শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন আজ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রা শুরু ১৯৮০ সালে। এত দিন দেশের প্রধান এই বিমানবন্দর দুটি টার্মিনাল নিয়ে চলছিল। এসব টার্মিনালে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি এয়ারলাইনসের ১২০ থেকে ১৩০টি ফ্লাইট ওঠানামা করে। এসব ফ্লাইটের ১৯ থেকে ২১ হাজার যাত্রী প্রতিদিন এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে। এসব যাত্রীকে মানসম্মত সেবা দিতে বিমানবন্দরে বর্তমানে চালু থাকা কম আয়তনের দুটি টার্মিনাল যথেষ্ট নয়। এ কারণে মূল টার্মিনালের দক্ষিণ পাশে নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিতে (পিপিপি) এই টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পাচ্ছে জাপান।

বেবিচক সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টার্মিনালটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ জাপানকে দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

নতুন টার্মিনাল নির্মাণের পর সুইস এয়ার, এয়ার কানাডা, এয়ার ফ্রান্সসহ অন্তত ১৫টি নতুন বিদেশি এয়ারলাইনস এরই মধ্যে ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘বিমানবন্দর একটা দেশের ড্রয়িংরুমের মতো। আমাদের দেশে অনেক উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু একটা সুন্দর এয়ারপোর্ট ছিল না। ফলে নতুন এই উদ্যোগ খুবই দরকার হয়ে পড়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা হিথরো, জন এফ কেনেডি, চাঙ্গি এয়ারপোর্ট দেখেছি। সব কিছু দেখেই আমরা একটি অত্যাধুনিক বিমানবন্দর যাত্রীদের উপহার দিচ্ছি। এটি পুরোপুরি চালু হলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর (অব.) এম ইকবাল হোসেন বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল না হওয়া পর্যন্ত আগামী চার বছরে যে হারে যাত্রী বাড়বে, তা সামাল দিতে এখন থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।’

আপন দেশ/আরএ

মন্তব্য করুন ।। খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত,আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়