ছবি: সংগৃহীত
বাংলা সাহিত্যে এমন কিছু রচনা আছে, যেগুলো স্রষ্টাকে ছাপিয়ে নিজস্ব পরিচয়ে বেঁচে থাকে। পাঠক রচনাটিকে চেনে, মুখে মুখে উচ্চারণ করে। অথচ কবি বা লেখকের নাম অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। এ বিরল বাস্তবতার উজ্জ্বল উদাহরণ কবি যতীন্দ্রমোহন বাগচী–এর ‘কাজলা দিদি’।
‘কাজলা দিদি’ শুধু একটি কবিতা নয়; এটি স্মৃতি, শোক আর ভালোবাসার সম্মিলিত প্রতীক। কবিতার শুরুতেই ‘বাঁশবাগান’ শব্দযুগল দিয়ে যে পল্লি-প্রকৃতির আবহ তৈরি হয়, তা পাঠককে গ্রামীণ বাংলার স্নিগ্ধ অথচ বেদনাময় পরিবেশে নিয়ে যায়। শিশুর কণ্ঠে উচ্চারিত প্রশ্ন—দিদি কোথায়—এ সরল জিজ্ঞাসাই পুরো কবিতার আবেগকে ধারণ করে।
কাজলা দিদি চরিত্রটি বইয়ের পাতা ছাড়িয়ে গান, নাটক এবং দৈনন্দিন কথোপকথনেও জায়গা করে নিয়েছে। ফলে এটি কেবল সাহিত্যিক সৃষ্টি নয়, সাংস্কৃতিক চেতনারও অংশ। শিশুটির অজানা শোক, মায়ের নীরব কান্না এবং মৃত্যুকে না বোঝার অসহায়তা—এসব মিলিয়ে কবিতাটি বাঙালি জীবনের চিরায়ত অনুভূতিকে স্পর্শ করে।
আরও পড়ুন <<>> ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
‘কাজলা দিদি’ আজও বাঙালির হৃদয়ে জীবন্ত। কিন্তু তার স্রষ্টা যতীন্দ্রমোহন বাগচীকে সমানভাবে স্মরণ করা জরুরি। সাহিত্যচর্চা, আবৃত্তি কিংবা আলোচনায় শুধু জনপ্রিয়তা নয়, সৃষ্টির পেছনের শিল্পীকেও মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ, শিল্পকে ধারণ করতে গেলে শিল্পীর পরিচয় জানা অপরিহার্য।
আবার পড়ুন যতীন্দ্রমোহন বাগচীর সেই কালজয়ী ‘কবিতা কাজলা দিদি’
কাজলা দিদি
যতীন্দ্রমোহন বাগচী
বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই;
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?
সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো;
দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো?
খাবার খেতে আসি যখন
দিদি বলে ডাকি তখন,
ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো?
আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো?
বল্ মা দিদি কোথায় গেছে, আসবে আবার কবে?
কাল যে আমার নতুন ঘরে পুতুল বিয়ে হবে!
দিদির মত ফাঁকি দিয়ে
আমিও যদি লুকাই গিয়ে,
তুমি তখন একলা ঘরে কেমন ক'রে রবে?
আমিও নাই- দিদিও নাই- কেমন মজা হবে!
ভূঁই-চাঁপাতে ভরে গেছে শিউলী গাছের তল,
মাড়াস্ নে মা পুকুর থেকে আনবি যখন জল।
ডালিম গাছের ফাঁকে ফাঁকে
বুলবুলিটা লুকিয়ে থাকে,
উড়িয়ে তুমি দিও না মা ছিঁড়তে গিয়ে ফল,
দিদি যখন শুনবে এসে বলবি কি মা বল্।
বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?
লেবুর তলে পুকুর পাড়ে
ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে ঝাড়ে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, তাইতো জেগে রই,
রাত্রি হোল মাগো, আমার কাজলা দিদি কই?
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































