ছবি: আপন দেশ
ভুবন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা
নীলাঞ্জনা ৩১
নীলাঞ্জনা
আমি প্রত্যহ বৈকালে
অজয় নদের ধারে
আজও আসি আগের মত।
বালুচরে খুঁজে বেড়াই
তোর পায়ের চিহ্ন আর
বয়ে যাওয়া স্রোতে
খুঁজি সেই ভালবাসা।
নীলাঞ্জনা
পঁয়তাল্লিশ বছর আগের
সেই সব স্মৃতিগুলো
মালা হয়ে দুলে ওঠে কণ্ঠে।
চোখের সামনে ভাসে
আজও তোর সেই দুষ্টুমি ভরা মুখ,
সেই বিশাল বট বৃক্ষ
এখনো আছে তেমনি দাঁড়িয়ে
যার বামপাশে রমলা বোষ্টমির আখড়া।
কুল কুল করে বয়ে যায় স্রোত
তুই একদিন কাগজের নৌকা করে
ভাসিয়ে দিতিস জলে।
নীলাঞ্জনা
তোর কি মনে আছে?
ভরা বসন্তে ঝরা পলাশ ফুল
দু'হাতে কুড়িয়ে আমার
পকেটে রাখতিস?
নীল ফড়িং ধরবি বলে
কত ছুটতিস তুই আর
সিঁয়ে কুল তুলতে গিয়ে
পায়ে কাঁটা ফুটিয়ে কাঁদতিস,
আমি সেই কাঁটা নখে করে
বার করে দিতাম।
নীলাঞ্জনা
তোর কি আর মনে পড়ে
সেই ঘোষদের পদ্ম পুকুর?
যেখানে সাঁতার কেটে রোজ
তোর জন্য সদ্য ফুটা পদ্ম
আমি তুলে আনতাম।
আর সেই ভূত বিল?
যেখানে যেতে তুই খুব ভয় পেতিস,
ওখানে শ্যাওড়া গাছে পেতনি থাকে, এই কথা
তোকে যেন কেউ বলেছিল।
নীলাঞ্জনা
হয়তো আজ তুই
সবকিছু ভুলে গেছিস বেমালুম, কিন্তু
হাজার চেষ্টা করেও আমি
ভুলতে পারিনি তোকে।
তোর সেই মিষ্টি মুখ, চঞ্চল দুটি চোখ
ব্যথার পাহাড় হয়ে রয়ে গেছে আমার বুকে।
আমি নিয়ত সেই ভার
বহন করে চলেছি একা আজও...
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































