Apan Desh | আপন দেশ

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে করণীয়

আপন দেশ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৫৩, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৩:০০, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে করণীয়

ফাইল ছবি

একটানা কয়েক দিনের তীব্র গরম শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এই সময়টা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তার সঙ্গে যোগ হয়েছে লোডশেডিং, ফলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত তাপে শরীর নিজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে হিট স্ট্রোক বা হিট এক্সহস্টনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এতে হৃদযন্ত্র ও কিডনির ওপরও মারাত্মক চাপ পড়ে। তাই এ সময়ে নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

চলুন জেনে নেয়া যাক এই গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে যা করণীয়

গরমে ঘর শীতল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কিছু সহজ উপায়ে তা সম্ভব। সন্ধ্যার পর যখন বাইরের বাতাস ঠান্ডা হয়, তখন জানালা খুলে দিন। দিনের বেলা রোদ বেশি থাকলে জানালা বন্ধ রেখে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখলে ঘরের তাপ কমে।

আরও পড়ুন<<>>রাগ নিয়ন্ত্রণের সহজ কৌশল

ফ্যান ও এসি ব্যবহারের নিয়ম
তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ফ্যান ব্যবহার করা ভালো। এর বেশি হলে ফ্যান উল্টো শরীরকে গরম অনুভব করাতে পারে। এসি ব্যবহার করলে ২৭ ডিগ্রিতে সেট করে সঙ্গে ফ্যান চালালে ঘর বেশি ঠান্ডা লাগে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।

শরীরের যত্ন
গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন এবং প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছুন বা পানি স্প্রে করুন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন—প্রতিদিন অন্তত ২–৩ লিটার। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে।

খাবারে সতর্কতা
এ সময়ে ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিপসে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে। ক্যাফেইন ও বেশি চিনি যুক্ত পানীয়ও ক্ষতিকর। বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমে সমস্যা করে এবং শরীরের তাপ বাড়ায়।

তরমুজের শরবত
প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং পানির চাহিদা মেটাতে তরমুজের শরবত অত্যন্ত কার্যকরী। তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে, যা গরমে শরীরের পানির ঘাটতি ও তৃষ্ণা দ্রুত মেটায়। এটি শরীর ও মনকে সতেজ রাখে এবং অতিরিক্ত গরমে প্রশান্তি আনে।

মাথা ঘোরা, বমিভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন থাকলেই এ তীব্র গরমে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

আপন দেশ/জেডআই

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়