ছবি: সংগৃহীত
অ্যালার্ম ছাড়া সকালে ঘুম থেকে ওঠা অনেকের কাছেই কঠিন। কেউ একাধিক অ্যালার্ম সেট করেন। আবার কেউ অ্যালার্ম বারবার স্নুজ করে রাখেন। বিছানা থেকে ওঠার পরও থেকে যায় ঝিমুনি বা ঘুম ঘুম ভাব।
ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ শুধু কত ঘণ্টা ঘুমানো তার ওপর নির্ভর করে না। বরং ঘুমের নিয়মিত রুটিনের ওপরও এটি নির্ভরশীল। অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক জৈব প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সেটি নিয়মের মধ্যে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে যারা ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে মুঠোফোন ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন এবং অন্ধকার কক্ষে ঘুমিয়েছেন, তাদের ঘুম অন্যদের তুলনায় ভালো হয়েছে। তারা সকালে অ্যালার্ম ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে ঘুম থেকে উঠতে পেরেছেন।
শরীর কীভাবে নিজেই ঘড়ির মতো কাজ করে
মানুষের শরীর ২৪ ঘণ্টার একটি জৈব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এ প্রক্রিয়া ঘুমের ধরণ ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পাশাপাশি হরমোন নিঃসরণেও সহায়তা করে।
সময়মতো ঘুমানো এবং সময়মতো ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরকে একটি নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত করে। ঘুম বিশেষজ্ঞ হেলেন বার্জেসের মতে, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমালে শরীর ধীরে ধীরে সে রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। এতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের জন্য শরীর প্রস্তুত হতে শুরু করে।
সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে ব্যক্তিভেদে প্রয়োজনীয় ঘুমের সময় ভিন্ন হতে পারে। কেউ সাত ঘণ্টা ঘুমিয়েই সতেজ অনুভব করেন। আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম।
সকালের আলো কেন গুরুত্বপূর্ণ
সকালের আলো শরীরের স্বাভাবিক জৈব প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনের শুরুতে সূর্যের আলোতে কিছু সময় কাটানো এবং শরীরচর্চা বা হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এটি জানালার পাশে বসে বিশুদ্ধ বাতাস নেয়া কিংবা বাড়ির আশপাশে কিছুক্ষণ হাঁটার মাধ্যমেও করা যেতে পারে। এতে শরীরের স্বাভাবিক জৈব প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। সতেজতা অনুভূত হয়।
অন্যদিকে ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত আলোতে থাকা বা বেশি সময় মুঠোফোন ব্যবহার করা ঘুমের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় পর্দায় তাকিয়ে থাকলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন <<>> মশার উপদ্রব কমানোর সহজ উপায়
মুঠোফোন কি ঘুমের সমস্যা বাড়ায়
অনেকেই সময়মতো ঘুমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু মুঠোফোন তাদের সে রুটিনে বাধা সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্ধকারে মুঠোফোন ব্যবহার করলে এর আলো ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা বেশি দেখা যেতে পারে। মুঠোফোন ব্যবহার অনেক সময় নেশার মতো হয়ে যায়।
অল্প সময়ের জন্য মুঠোফোন হাতে নেয়া হলেও কখন কয়েক ঘণ্টা কেটে যায়, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। একটির পর একটি ভিডিও, রিল বা পোস্ট দেখতে গিয়ে রাত গভীর হয়ে যায়। এতে মস্তিষ্ক ঘুমের প্রস্তুতি নেয়ার পরিবর্তে মুঠোফোনের প্রতি আরও মনোযোগী হয়ে পড়ে।
তাই ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুঠোফোন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অ্যালার্ম ছাড়া সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে হলে প্রথমেই নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত ঘুম। দেরিতে ঘুমালে অ্যালার্ম ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হতে পারে।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই শরীরকে নির্দিষ্ট রুটিনে অভ্যস্ত করা সম্ভব।
অনেকেই ছুটির দিনে দীর্ঘ সময় ঘুমান। এটিও শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রে পরিবর্তন আনতে পারে। ফলে অন্য দিনগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া কখন এবং কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।
অনেকে রাতে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা কাজ করার জন্য চা-কফি পান করেন। এতে থাকা ক্যাফেইন ঘুমের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা কিছু মানুষের ওপর এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তাদের একটি দল ঘুমানোর আগে মুঠোফোন ব্যবহার করেননি। তারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়েছেন এবং পরিমিত চা-কফি পান করেছেন।
এক সপ্তাহ পর দেখা যায়, ওই ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় নির্দিষ্ট সময়ে সহজে ঘুম থেকে উঠতে পেরেছেন। এমনকি অনেকেই কোনো ধরনের অ্যালার্ম ছাড়াই সময়মতো ঘুম থেকে উঠেছেন।
তাই সকালে অ্যালার্মের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইলে পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের রুটিন, সকালের আলোতে থাকা, মুঠোফোনের ব্যবহার কমানো এবং খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ আনা গুরুত্বপূর্ণ।
আপন দেশ/এসএস





































