ফাইল ছবি।
ভ্যালেন্টাইন ডে বা ভালোবাসা দিবস মানেই কি শুধু জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ানো? দিনটি কি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য সংরক্ষিত? বর্তমান সময়ের জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্ম কিন্তু তা মনে করে না। তাদের কাছে সিঙ্গেল থাকা মানে একঘেয়েমি নয়, বরং নিজের শর্তে জীবন কাটানোর স্বাধীনতা।
'সেলফ-লাভ' বা নিজেকে ভালোবাসার ধারণা এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সঙ্গীহীন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই দিনটি স্মরণীয় করে তোলা যায়, তার একটি বিশেষ গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।
১. সলো ট্রাভেলিং: নিজের সঙ্গে সময় কাটানো
শহরের ব্যস্ততা ছেড়ে কোনো এক নির্জন পাহাড়ে বা নীল সমুদ্রের কাছে একাকী সময় কাটানো হতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা। কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে কোনো অজানার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়া আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। বাসের জানালার পাশে বসে পছন্দের প্লে-লিস্টে ডুবে থাকা মনের ক্লান্তি দূর করে। নিজেকে নতুন করে চেনার জন্য সলো ট্রিপ সেরা বিকল্প।
২. বন্ধুদের সঙ্গে 'গ্যালেন্টাইন' আড্ডা
ভালোবাসা দিবসে সিঙ্গেল বন্ধুদের আড্ডাকে অনেকেই এখন 'গ্যালেন্টাইন' বা ব্রোম্যান্স আড্ডা বলছেন। পাড়ার টং দোকান, টিএসসি কিংবা কোনো শৌখিন ক্যাফেতে বন্ধুদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো যেতে পারে। ঝালমুড়ি, চা আর বেহিসাবি আড্ডা কর্মজীবনের একঘেয়েমি কাটাতে জাদুর মতো কাজ করে।
৩. মুভি ম্যারাথন ও কফি
বাইরে কোলাহল অপছন্দ হলে ঘরই হতে পারে আপনার বিনোদন কেন্দ্র। নিজের পছন্দের কোনো থ্রিলার সিরিজ বা ক্লাসিক কমেডি সিনেমা নিয়ে বসে পড়ুন। এক মগ কফি আর স্ন্যাকস নিয়ে নিজের ‘কোয়ালিটি টাইম’ উপভোগ করুন। এটি মানসিক প্রশান্তির অন্যতম সেরা মাধ্যম।
৪. পরিবারই প্রথম ভালোবাসা
ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডি নেই। বাবা-মা বা ভাইবোনের সঙ্গে সময় কাটানো আপনার দিনটিকে অর্থবহ করে তুলতে পারে। তাদের জন্য ছোট কোনো উপহার কেনা বা ঘরেই বিশেষ কোনো খাবারের আয়োজন করা যেতে পারে। কবিতা আবৃত্তি বা গানের আড্ডায় ঘরোয়া পরিবেশ হয়ে উঠবে উৎসবমুখর।
৫. রন্ধনশৈলীতে নতুন চমক
যারা রান্না করতে পছন্দ করেন, তারা এদিন এক্সপেরিমেন্টাল কুকিং করতে পারেন। ইউটিউব দেখে কোনো জটিল বা শৌখিন রেসিপি তৈরি করুন। নিজের হাতে তৈরি খাবার পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করা বা সলো ডিনারে অংশ নেয়া সৃজনশীল আনন্দ দেয়। এটি এক ধরণের ‘স্ট্র্যাস বাস্টার’ হিসেবেও পরিচিত।
৬. ডিজিটাল কন্টেন্ট ও শখের চর্চা
আপনার যদি কোনো শখ থাকে, তবে এদিন সেটি নিয়ে কাজ করুন। গিটার বাজানো, ছবি আঁকা কিংবা ট্রাভেল ব্লগ তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন। নিজের দক্ষতাকে ডিজিটাল কন্টেন্ট হিসেবে রূপ দেওয়া শুধু মানসিক তৃপ্তিই দেয় না, বরং আধুনিক ক্যারিয়ার গড়তেও সাহায্য করে।
৭. নিজের জন্য উপহার
অন্য কেউ উপহার দেবে—সে আশায় বসে না থেকে নিজেকে নিজেই উপহার দিন। প্রিয় কোনো বই, পছন্দের পোশাক বা কোনো গ্যাজেট কিনে নিতে পারেন। সেলফ-গিফটিং বা নিজেকে উপহার দেওয়া আত্মতুষ্টির একটি বড় উৎস।
৮. ডিজিটাল ডিটক্স
অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের ছবি দেখে সিঙ্গেলদের মনে বিষণ্ণতা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে এদিন আপনি 'ডিজিটাল ডিটক্স' করতে পারেন। ফোন দূরে সরিয়ে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান কিংবা ডায়েরি লিখুন। এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যকে সতেজ রাখবে।
ভালোবাসা দিবস মানেই কারও ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়। এটি মূলত ভালোবাসার উদযাপন, আর সে ভালোবাসা শুরু হওয়া উচিত নিজের ভেতর থেকে। তাই সিঙ্গেল হওয়া নিয়ে মন খারাপ না করে, দিনটিকে নিজের মতো করে উপভোগ করুন।
আপন দেম/এমবি




































