ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার চার আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তবে ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী ২০ জন প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন জামানত হারাচ্ছেন। মাত্র ৯ জন প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন।
এদিকে সাতক্ষীরা-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলমের প্রাপ্ত ভোট জেলার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, জামানত রক্ষায় মোট প্রদত্ত বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। সাতক্ষীরার চারটি আসনে এ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন ১১ জন প্রার্থী।
সাতক্ষীরা-১ (তালা–কলারোয়া) : এ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল অন্তত ৪৬ হাজার ৯৭৬ ভোট। বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাদে বাকি তিনজন প্রার্থী লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছিও যেতে পারেননি। জামানত হারিয়েছেন জিয়াউর রহমান (লাঙ্গল), শেখ মো. রেজাউল করিম (হাতপাখা) এবং মো. ইয়ারুল ইসলাম (ডাব)।
সাতক্ষীরা-২ (সদর–দেবহাটা) : এ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ৪৯ হাজার ৪০৭ ভোট। জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীরা ছাড়া অন্যদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। জামানত হারিয়েছেন মো. আশরাফুজ্জামান (লাঙ্গল), মুফতী রবীউল ইসলাম (হাতপাখা) এবং মো. ইদ্রিস আলী (মোটরগাড়ি)।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি–কালিগঞ্জ) : এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ৪৪ হাজার ৫৬৩ ভোট। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন তৃতীয় হলেও প্রয়োজনীয় ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন। তবে তিনজন প্রার্থী ন্যূনতম ভোট পাননি। জামানত হারিয়েছেন মো. ওয়েজ কুরনী (হাতপাখা), মো. আলিপ হোসেন (লাঙ্গল) এবং রুবেল হোসেন (রকেট)।
আরও পড়ুন <<>> বোনকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে ভাইকে হত্যা
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) : এ আসনে চারজনের মধ্যে দুজন জামানত রক্ষা করেছেন। ন্যূনতম প্রয়োজন ছিল ২৫ হাজার ২৪৫ ভোট। জামানত হারিয়েছেন এস এম মোস্তফা আল মামুন (হাতপাখা) এবং মো. আব্দুর রশীদ (লাঙ্গল)।
সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী হাফেজ মুহা. রবিউল বাশার বিজয়ী হন। তবে আলোচনায় উঠে আসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম। তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীনকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলেন তিনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও বিপুল ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেন ডা. শহিদুল আলম।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থীরা জেলার কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেননি। চারটি আসনেই লাঙ্গল ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন। মূল লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম ছাড়া অন্য কেউ ভোটারদের বড়ভাবে আকৃষ্ট করতে পারেননি।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































