Apan Desh | আপন দেশ

বসুন্ধরার ৫ সংবাদমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ০০:০১, ৯ জুন ২০২৬

আপডেট: ০০:০১, ৯ জুন ২০২৬

বসুন্ধরার ৫ সংবাদমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আবেদন

ছবি: আপন দেশ

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া। এর অধীনে পাঁচটি সংবাদমাধ্যম রয়েছে। এ সংবাদমাধ্যমগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারত্ব ফেরাতে সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে।

সোমবার (০৮ জুন) এ আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এ আবেদন জমা দেয়া হয়।

আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দফতরেও পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ আইনজীবী।

এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে নদী-নালা ও জলাভূমি দখলসহ আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া তুলে ধরা হয়েছে রাজউকের প্ল্যান জালিয়াতি এবং হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে দুবাই, সিঙ্গাপুর, সাইপ্রাস, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ।

সংবাদমাধ্যমগুলোর মালিকপক্ষ ও তাদের ভূমিকার সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে এম সারওয়ার হোসেন বলেন, বসুন্ধরার মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দ্য ডেইলি সান, নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভি এবং বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর — এই পাঁচটি মিডিয়া রয়েছে।

গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শাহ আলম সাহেব চেয়ারম্যান হয়ে রাষ্ট্রের ভেতরে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে।

তিনি আরও বলেন, তারা সরকারি অনেক জমি দখল করেছে, যার পরিমাণ হাজার থেকে লক্ষ হতে পারে, যেটা সিআইডি তদন্ত করছে।

ফৌজদারি অপরাধের বিষয়ে তিনি বলেন, তার ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের ক্রিমিনাল অফেন্স কমিট করেছে।

নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দিতে বসুন্ধরা গ্রুপ সংবাদমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অভিযোগ তুলে আইনজীবী সারওয়ার বলেন, তাদের এ অপকর্ম, মানি লন্ডারিং, ধর্ষণ, খুন, জমি দখল— এ সমস্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তারা পাঁচটি মিডিয়া ব্যবহার করে একসঙ্গে অপপ্রচার এবং মানহানিকর মিথ্যা তথ্য প্রচার করতে থাকে।

মুনিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি লড়াই বাধাগ্রস্তের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা চাচ্ছে তার ছেলেপেলেরা যা খুশি তাই করবে। কিন্তু ভিক্টিম পরিবার একজন ল ইয়ারও নিয়োগ করতে পারবে না।

আরও পড়ুন <<>> আছিয়া হত্যা মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে

তবে সংবাদমাধ্যমগুলোতে কর্মরতদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে সারওয়ার বলেন, এ মিডিয়া হাউজের সাংবাদিক ভাইয়েরা, তারা বাধ্য হইয়া এ অনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদেরকে আমি দোষ দেই না।

প্রশাসক নিয়োগ হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের প্রশ্ন উঠবে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো বন্ধের পক্ষে নন জানিয়ে বলেন, না, আমরা বলছি যে মিডিয়া হাউজগুলো এটা চলমান থাকুক। কিন্তু এ মিডিয়াটাকে পেশাদারিত্বে ফেরত আনতে হবে।

প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে মন্ত্রণালয়ে কেন আবেদন করলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস কাউন্সিলকে একটি ‘দন্তহীন সংস্থা’ আখ্যা দিয়ে সারওয়ার বলেন, তারা শুধু সতর্ক করতে পারে, এর বাইরে তাদের আইনে কোনো এখতিয়ার নাই।

সরকার এ আবেদনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করার ঘোষণাও দিয়েছেন এ আইনজীবী।

আপন দেশ/এসএস

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়