ছবি: আপন দেশ
যে কোনো দোকান থেকে কোনো পণ্য ক্রয় করলে সেটি ব্যাগে ভরে দেন ব্যবসায়ীরা। এতদিন এভাবেই চলে আসছিল। কিন্তু এবারই প্রথম শপিং ব্যাগের জন্য ক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ নিচ্ছে আড়ং। এমন অভিযোগ তুলে এ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটিকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেন অভি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।
রোববার (১৫ মার্চ) দেয়া নোটিশে আইনগত পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে (ডিজি) বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আড়ংয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে জনস্বার্থে রিট করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন।
এর আগে একই কারণ দেখিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিশাত ফারজানা আড়ংকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন।
নোটিশে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টিকে কেবল ক্রেতার হয়রানি নয়, বরং আইনি ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন উল্লেখ করেছেন। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ০১ সেপ্টেম্বর থেকে কেনাকাটার পর বিনামূল্যে শপিং ব্যাগ না দিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে আড়ং, যা আইনের পরিপন্থী। দেশের অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রম না করলেও গত কয়েক মাস ধরে আড়ংয়ের বিভিন্ন শো-রুমে পণ্য কেনার পর ব্যাগের জন্য বাড়তি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতারা।
আরও পড়ুন<<>>আটকে গেল খায়রুল হকের কারামুক্তি
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আলোকে আইনজীবী সাদ্দাম বলেন, আড়ং ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণামূলক বা অন্যায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম করে যাচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে দণ্ডনীয়। ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সেখানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন এবং অন্যায় ব্যবসায়িক আচরণ এই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। সংবিধানের ৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আড়ং নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে না। শপিং ব্যাগের জন্য অর্থ নেওয়া এবং ক্রেতাদের হাতে করে কাপড় বহন করতে বাধ্য করা ভোক্তা অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ক্রেতাদের নিরাপদ ও সুবিধাজনক সেবা নিশ্চিত না করা এক প্রকার অন্যায় ব্যবসায়িক আচরণ।
আইনজীবী নোটিশে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, ভোক্তা অধিদফতর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়ার মাধ্যমে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছে। এ নিষ্ক্রিয়তাকে আইনি ভাষায় স্ট্যাটুটরি ডিউটি ফেইলিওর হিসেবে গণ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাণিজ্য সচিব ও ভোক্তা অধিদফতরের মহাপরিচালককে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবিলম্বে আড়ংয়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানানো হয়েছে নোটিশে।
অযৌক্তিক আর্থিক চাপের কারণে মানুষ প্রতিবাদ হিসেবে শপিং ব্যাগের পরিবর্তে হাতে করে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন, যা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। আড়ংয়ের এ কাজ ভোক্তাদের আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতার মান লঙ্ঘন উল্লেখ করে নোটিশে বলা আরও হয়, দেশের অন্যান্য ব্র্যান্ডও ক্রেতাদের কাছ থেকে শপিং ব্যাগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে উৎসাহিত হতে পারে, যা সরকার ও প্রশাসনের ওপর জনগণের ক্ষোভ তৈরি করবে।
আপন দেশ/জেডআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































