জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপিটি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিগ্যাল সেল সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ। এ সময় জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন<<>>নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নারকীয় সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা ইতিহাসে শহীদ হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাদের এ মহান আত্মত্যাগে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, চানখারপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসংক্রান্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন তাতে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা করেছে শহীদ পরিবারগুলোকে।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশের জন্য চারটি কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে স্বারকলিপিতে। সেগুলো হলো,
১. এ রায় আইনগতভাবে সংগত নয়। কারণ, সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও রায়ে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি, যা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
২. প্রিন্সিপাল অফেন্ডারদের অপর্যাপ্ত শাস্তি না দিয়ে ও সুপিরিয়র কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড আরোপ করায় ভবিষ্যতে এ রায় টিকবে কি না সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
৩. রায়টি সম্পূর্ণরূপে জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি। এর ফলে এক হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা চরমভাবে মর্মাহত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
৪. এ রায় ভবিষ্যতে একটি নেতিবাচক নজির হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের স্বার্থে এ রায় পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

























