Apan Desh | আপন দেশ

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‌‘অর্ণব’

আান্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১৫:১৩, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‌‘অর্ণব’

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের উপকূলে আছড়ে পড়েছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। প্রবল ঝড়ো হাওয়া, মুষলধারে বৃষ্টি আর উত্তাল ঢেউয়ে লণ্ডভণ্ড উপকূলীয় জনপদ। উপড়ে পড়ছে গাছপালা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, বিপর্যস্ত জনজীবন। আতঙ্কে ঘরবন্দি মানুষ, বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতের উপকূলে এখন যেন এক বিধ্বস্ত জনপদের চিত্র।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়নাম উপকূল জুড়ে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের ল্যান্ডফল বা উপকূলে আঘাত হানার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার প্রভাবে উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়েছে। 

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল ও ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি। 

এসময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে চার ঘণ্টা মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।‌

‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। 

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে। 

ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিবেশা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও।

ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উপকূলে আঘাত হানার পর প্রবল বর্ষণের মুখে পড়ে ভুগান্তিতে পড়ে উপকূলের মানুষ। অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আমরা সব হারিয়েছি।

এনডিটিভি জানেয়ছে, সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরনের কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। 

আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে এবং জীবন নতুন করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সার্বিক সহায়তা দেয়।

অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, রাজ্য সরকার ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের মোকাবিলার প্রস্তুতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। 

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। উপকূল এলাকা থেকে ‌ইতোমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি এক্সে করা (সাবেক টুইটার) করা একটি পোস্টে লিখেছেন, আন্ধ্রপ্রদেশ যখন ঘূর্ণিঝড় অর্ণব-এর মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়