ছবি: আপন দেশ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কের অবরোধ সপ্তম দিনে গড়াল। অবরোধের পঞ্চমদিনের মাথায় সরকারের সাথে আন্দোলনকারীদের আলোচনা হলেও এক দফা বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে এখনো সুরাহা হয়নি অবরোধ কর্মসূচি।
এদিকে দাবি আদায় না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির ফেসবুক পেজে এ ঘোষণা দেন।
সাতদিন ধরে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশন।
আন্দোলনকারীদের এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সাজেক সড়কে কয়েকটি জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি রয়েছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, সাজেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। শিগগিরই এর সমাধান হবে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা তিনটা থেকে বিকেল পৌনে ছয়টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজো বাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়।
বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
তবে প্রধান দাবি-সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের পথও তৈরি হয়নি।
আরও পড়ুন <> ‘দালাল চক্র ফ্যাসিস্ট আমলের সৃষ্টি, ১৫১ শয্যার হচ্ছে উপজেলা হাসপাতাল’
সোমবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে আহবায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, সরকার তাদের প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেনি।
এ দাবি পূরণে সরকার প্রথমে এক মাস সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি ছিলেন। পরে সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলে আন্দোলনকারীরা আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে সম্মত হন বলে তিনি জানান।
কিন্তু প্রধান দাবি বাস্তবায়নের বিষয়ে নিশ্চিত আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আন্দোলনকারীদের পাঁচদফা দাবির মধ্যে রয়েছে-২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা; পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধ করা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী এবং দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
আপন দেশ/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































