Apan Desh | আপন দেশ

তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ০৯:১৭, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এ উত্তেজনা ঘিরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রস্তুতি আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। কয়েক দিন ধরেই ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক পদক্ষেপে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিমানবাহী রণতরিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের পর এবার ইরান অভিমুখে আরও একটি নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি অঞ্চলজুড়ে সামরিক মহড়ার কথাও জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আরও একটি সুসজ্জিত নৌবহর ইরানের পথে আছে। আমি আশা করছি, তারা (ইরান) সমঝোতা করতে রাজি হবে। তার এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা দেয়া হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে ট্রাম্পের এমন হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরানকে হুমকি দিলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, সামরিক হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হতে পারে না। আলোচনায় বসতে চাইলে হুমকি ও অযৌক্তিক প্রসঙ্গ বাদ দেয়ার আহবান জানান তিনি।

এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিমানবাহিনীর শাখা এয়ারফোর্সেস সেন্ট্রাল মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রস্তুতি সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। কয়েক দিনব্যাপী এ মহড়ার লক্ষ্য হিসেবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং নমনীয় হামলার প্রস্তুতি নেয়াও এর উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে।

তবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি, স্থান কিংবা ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এ মহড়াকে দেখা হচ্ছে।

এর আগে গত সোমবার সেন্টকম জানায়, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক বহনকারী এ রণতরির সঙ্গে রয়েছে একাধিক গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ডেস্ট্রয়ার, যা নৌবহরের আকাশ প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন<<>>খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের সংসদে শোকপ্রস্তাব

অন্যদিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট হচ্ছে। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে রিয়াদ। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। 

মঙ্গলবার সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য জানায়। ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের যেকোনো উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে।

সৌদি আরবের এ অবস্থানের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের বার্তা দেয়। তারা জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে না।

এদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পথচারীরাও ছিলেন। সংগঠনগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে বড় দমন–পীড়নের ঘটনা। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে অস্থিরতা ও প্রাণহানির জন্য বিদেশে থাকা বিরোধীদের সমর্থনপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে।

আপন দেশ/জেডআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়