Apan Desh | আপন দেশ

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাম্পের হুমকিতে কড়া অবস্থানে ইউরোপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে উত্তেজনা: ট্রাম্পের হুমকিতে কড়া অবস্থানে ইউরোপ

ছবি : সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ড ঘিরে আবারও বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও আর্কটিক অঞ্চলে দখলের হুমকি দিয়েছেন। এর ফলে ডেনমার্ক, ইউরোপ এবং ন্যাটো জোটের ভেতরে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতের বৈঠকে ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন একে গ্রিনল্যান্ডের জন্য একটি ‘নির্ধারক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মেট্টে ফ্রেডেরিকসেন জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এখন একটি স্পষ্ট দ্বন্দ্ব চলছে। তার মতে, এই ইস্যু শুধু ভূখণ্ডের নয়, ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও জড়িত।

তিনি জানান, ডেনমার্ক তাদের মূল্যবোধ রক্ষায় প্রস্তুত। প্রয়োজনে আর্কটিকেও সে অবস্থান বজায় থাকবে। তিনি আন্তর্জাতিক আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের কথাও বৈঠকে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের এই হুমকি সুইডেনসহ অনেক দেশ হুমকি হিসেবে দেখছে। যার কারণে ইউরোপে প্রতিক্রিয়া তীব্র হচ্ছে।

সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উল্ফ ক্রিস্টারসন ট্রাম্পের হুমকির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি জানান, সুইডেন, নর্ডিক দেশ, বাল্টিক রাষ্ট্র এবং একাধিক বড় ইউরোপীয় শক্তি ডেনমার্কের পাশে আছে। ন্যাটোর এক শীর্ষ মার্কিন জেনারেলের উপস্থিতিতেই তিনি তার অবস্থান জানান।

ক্রিস্টারসনের মতে,যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করে তাহলে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ হবে। এতে অন্য দেশগুলোকেও একই পথে চলার উৎসাহ দেয়া হবে। এর ফলে বিশ্বব্যবস্থায় বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি হতে পারে।

জার্মানিও ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেহপুল আইসল্যান্ডে গিয়ে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘আর্কটিকের নিরাপত্তা এখন ন্যাটোর সাধারণ স্বার্থের অংশ।’

এ অবস্থায় সামরিক প্রস্তুতির কথাও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য ন্যাটো মিশনের পরিকল্পনা চলছে। ইউরোপের সামরিক প্রধানরা এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স একসঙ্গে কাজ করতে পারে। রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে তারা এ উদ্যোগ নিতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, ‘আর্কটিক এখন দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকানোই তাদের উদ্দেশ্য।’

বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রী থিও ফ্রাঙ্কেনও আর্কটিকে ন্যাটো অভিযানের পক্ষে কথা বলেছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এবং নিরাপত্তা মোকাবিলায় জোটকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে। তাই গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : ইরানের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে: ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল। ২৬ বছর পর তারা স্বাধীনতা পায়। এখন তারা ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শিথিল করার কথা ভাবছে। তবে জরিপ বলছে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ মার্কিন দখলের বিপক্ষে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

আপন দেশ/এসএস/এনএম

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়