ছবি : আপন দেশ
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন ও গোবিপ্রবির সম্মুখসারির জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. আহসান বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ছাত্র অধিকার পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, আমরা ৮০-৯০ দশকের ছাত্র রাজনীতির আদর্শ, জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব ও ইতিবাচক সংস্কৃতির কথা শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যোগ্য নেতৃত্বের পরিবর্তে বিভিন্ন প্রভাবের মাধ্যমে পদায়নের কারণে সে সৌন্দর্য অনেকটাই নষ্ট হয়েছে।
প্রক্টর বলেন, জুলাই আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়েছে—ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার না করে, প্রতিহিংসা পরিহার করে এবং সবসময় ন্যায় ও মানবতার পক্ষে থেকে মজলুমের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সবার দায়িত্ব।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী তোহা বলেন, যদি আমরা জুলাইকে ভুলে যাই, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ভুলে যাই, তাহলে কখনোই নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ সকল শহীদকে আমাদের আজীবন মনে রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা জুলাইয়ের কল্যাণে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা যদি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ভুলে যাই, তাহলে নতুন বাংলাদেশ কখনো নির্মাণ করা সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় অনেক সাংবাদিক আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তেমনি অনেক গাদ্দার ও হলুদ সাংবাদিক আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
আরও পড়ুন <<>> ছাত্রীকে অশালীন মেসেজ, চাকরিচ্যুত খুবি অধ্যাপক
তিনি আবার বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা কী এক বিভীষিকাময় জীবন অতিবাহিত করেছি। রাষ্ট্র আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে বাজেট বৈষম্য করেছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ৫ আগস্টের পরেও পরবর্তী কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারেনি।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, জসিম উদ্দিন ও পলাশ ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
গোবিপ্রবি শাখার সভাপতি সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বক্তব্য দেন গোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক খন্দকার, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুবর্ণা জয়, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাবীব এবং ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব শাওন আহমেদ।
আপন দেশ/এসএস
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































