Apan Desh | আপন দেশ

সিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা

ক্রীড়া ডেস্ক, আপন দেশ

প্রকাশিত: ১২:০২, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা

ছবি: আপন দেশ

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনস।

টুর্নামেন্টের নতুন দল জ্যামাইকা কিংসম্যানকে ৮ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম সিপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। টুর্নামেন্টে নিজেদের মাত্র তৃতীয় মৌসুমেই এই সাফল্য পেল ফ্যালকনস। 

ক্যাচ নাকি নয়? নাহ, শেষ পর্যন্ত ছয়! হাসান নাওয়াজের শট ফিল্ডারকে আশা দেখিয়েও পেরিয়ে গেল সীমানা। সেই ছক্কাতেই ম্যাচের সমাপ্তি। ডাগআউট থেকে ছিটকে বেরিয়ে মাঠে ছুটে গেলের অ্যান্টিগার ক্রিকেটাররা। 

সহকারী কোচ স্যার কার্টলি অ্যামব্রোস, আবেগের প্রকাশ যার মধ্যে দেখা যায় সামান্যই, সেই তিনিও চওড়া হাসিতে দুহাত উঁচিয়ে ছুটলেন মাঠে। উপলক্ষটাই এমন যে আবেগ মানে না বাধা!

রান তাড়ার রেকর্ড গড়ার চ্যালেঞ্জ ছিল সামনে। সেটিকে তুড়ি মেরে উড়িয়েই সিপিএলে প্রথম শিরোপা জয়ের উৎসবে নিজেদের রাঙাল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। মাজ সাদাকাতের একার লড়াইয়ে অসাধারণ সেঞ্চুরি যথেষ্ট হলো না জ্যামাইকা কিংসমেনের জন্য।

সিপিএলের চতুর্দশ আসরে জ্যামাইকা কিংসমেনকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির তো বটেই, অ্যান্টিগার কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিরই প্রথম ট্রফি এটি।

ব্রিজটাউনে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে জ্যামাইকা ২০ ওভারে তোলে ১৭০ রান। সেই স্কোর মূলত সাদাকাতেরই অবদান। দলের ৬৭ শতাংশের বেশি রান করেন তিনি একাই।

চার দিন আগে এলিমিনেটর ম্যাচে ৪৯ বলে ১১২ রান করা পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান এবার উপহার দেন ৯ ছক্কায় ৫৮ বলে ১১৪ রানের ইনিংস। সিপিএলের ফাইনালে প্রথম সেঞ্চুরি এটিই।

দলকে একরকম একাই টেনে নেন সাদাকাত। জ্যামাইকার শেষ সাত ব্যাটসম্যানের সম্মিলিত অবদান ছিল স্রেফ ছয় রান! ওপেন করতে নেমে দলকে এগিয়ে নিয়ে সাদাকাত আউট হন শেষ ওভারে শেষের আগের বলে।

তবে তার সেই প্রচেষ্টা বিফলে যায় পরে। জ্যামাইকার বোলারদের পাত্তা না দিয়ে ২০ বল বাকি রেখেই জিতে যায় অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা।

সিপিএলের ফাইনালে সবচেয়ে বড় রান তাড়ায় জয়ের নজির এটি।

আরও পড়ুন : কোরিয়াকে হারিয়ে পদক জয়ের স্বপ্ন বাংলাদেশের 

রান তাড়ার রেকর্ডের মধ্যেও ফাইনালের ম্যান অব দা ম্যাচ একজন বোলার। চার ওভারে স্রেফ ১৪ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার পাকিস্তানি বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার সুফিয়ান মকিম।

জ্যামাইকা ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। ম্যাচের প্রথম বলেই চোখধাঁধানো ফ্লিক শটে বল স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে দেন সাদাকাত। নতুন বল আনতে হয় তখনই।

প্রথম ওভারেই আউট হন আরেক ওপেনার কার্ক ম্যাকেঞ্জি। চতুর্থ ওভারে বিদায় নেন তিনে নামা কেসি কার্টি।

এরপর স্বদেশি সাইম আইয়ুবকে নিয়ে জুটিতে জ্যামাইকাকে এগিয়ে নেন সাদাকাত। ৪৬ বলে ৮০ রানের জুটি গড়েন দুজন। সেটি মূলত সাদাকাতের সৌজন্যেই। ফিফটি করে ফেলেন তিনি ২৭ বলে।

ষষ্ঠ বোলার হিসেবে মকিম আক্রমণে আসেন ১১ ওভার শেষে। জ্যামাইকার রান তখন ২ উইকেটে ১০৮। মকিম বদলে দেন সেই চিত্র। সাইমকে (২২ বলে ২৯) ফিরিয়ে তিনি ভাঙেন জুটি। ওই ওভারেই ফিরিয়ে দেন জ্যামাইকা অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েলকে।

এরপর একপ্রান্তে উইকেট পড়েছে টপাটপ। দাঁড়াতে পারেননি একজনও। আরেকপ্রান্তে নিজের কাজ করে যান সাদাকাত। সঙ্গী পাননি আর কাউকে।

৭৯ রান থেকে সপ্তদশ ওভারে জশুয়া জেমসকে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় সাদাকাত পৌঁছে যান শতরানের দুয়ারের। পরের বলে সিঙ্গল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৪৯ বলে।

শেষ দিকে ঝড় তুলে ব্যর্থ আন্দ্রে রাসেলও (৭ বলে ২)। শেষের আগের বলে ছক্কার চেষ্টায় শেষ হয় সাদাকাতের অসাধারণ ইনিংস।

রান তাড়ায় অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডাকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন রাকিম কর্নওয়াল। প্রথম ওভারেই সাইম আইয়ুবকে দুটি চার ও দুটি ছক্কা মেরে আউট হয়ে যান তিনি শেষ বলে।

সেই গতি ধরে রেখে দ্বিতীয় উইকেটে ৬৪ রান যোগ করেন এভিন লুইস ও আমির জাঙ্গু। ২৬ বলে ৩৮ রান করে লুইস ফিরলেও দল ততক্ষণে জয়ের পথে ছুটছে। জাঙ্গু ও হাসান নাওয়াজ ৮৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে শেষ করেন কাজ।

৩৪ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন জাঙ্গু, ৩৫ বলে ৪৭ রানে নাওয়াজ।

ফাইনালে ছিল পাকিস্তানিদের জয়জয়কার। সাদাকাতের সেঞ্চুরি, মকিমের দারুণ বোলিং, নাওয়াজের অপরাজিত ইনিংসের পাশাপাশি ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট হন শাদাব খান। আসরে ১৩২ রান করার পাশাপাশি ১১ উইকেট শিকার করেন এই লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জ্যামাইকা কিংসমেন: ২০ ওভারে ১৭০/৯ (সাদাকাত ১১৪, ম্যাকেঞ্জি ০, কার্টি ৯, সাইম ২৯, পাওয়েল ০, মরিস ০, হাসান ১, পল ৩, রাসেল ২, হুনাইন ০*, লজ ০*; সিলস ২-০-১৮-১, জোসেফ ৪-০-২৭-২, কর্নওয়াল ৩-০-৩৫-০, জেমস ২-০-৩৬-০, শাদাব ৪-০-২৮-১, মকিম ৪-০-১৪-৪, স্প্রিঙ্গার ১-০-১৪-১)।

অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স: ১৬.৪ ওভারে ১৭৩/২ (কর্নওয়াল ২০, লুইস ৩৮, জাঙ্গু ৫৭*, নাওয়াজ ৪৭*; সাইম ৩-০-৪২-১, রাসেল ২-০-১৬-০, হুনাইন ২.১-০-২৬-০, পল ৩-০-১৮-০, লজ ৪-০-৩২-১, হাসান ১-০-১৪-, পাওয়েল ১.৩-০-২৩-০)।

ফল: অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ফাইনাল: সুফিয়ান মকিম।

ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: শাদাব খান।

 

আপন দেশ/এমটিআই

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়