ছবি : আপন দেশ
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী পরিবহনে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস বহরের অর্ধেকের বেশি বর্তমানে অচল হয়ে পড়ায় সীমিত সংখ্যক যানবাহন দিয়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর যাতায়াত নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৪টি বাসের মধ্যে ৭টিই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সচল থাকা মাত্র ৭টি বাসের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ৩টি দোতলা বাস যুক্ত করে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার শিক্ষার্থীর পরিবহন চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বাসের স্বল্পতার কারণে প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাচ্ছে। বিশেষ করে ক্লাস শেষে শহরমুখী যাত্রায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আগে ছাত্রীদের জন্য চালু থাকা আলাদা ট্রিপ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বাড়তি দুর্ভোগে।
আরও পড়ুন<<>>সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৩ দিনের ছুটি
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখা সূত্রে জানা যায়, ৯, ১০, ১১, ১৪, ১৮, ২০ ও ২১ নম্বর বাসগুলো বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী। অপরদিকে ৮, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৯ নম্বর বাস এবং বিআরটিসির তিনটি বাস সীমিত পরিসরে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, বাসে সিট পাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় উপায় না দেখে বাড়তি টাকা খরচ করে অটোতে যাতায়াত করতে হয়।
পরিবহন সংকটের বিষয়ে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন সাগর বলেন, বাসের পরিস্থিতি এখন অসহনীয়। দরজায় ঝুলে যাতায়াত করতে গিয়ে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা এ সপ্তাহেই প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এর দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধান দাবি করব। পরিবহন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, বাসগুলোর বয়স প্রায় ২০ বছর হয়ে যাওয়ায় মেরামত খরচ অনেক বেড়ে গেছে। বাসগুলো ঠিক করার জন্য প্রশাসনের কাছে অর্থের আবেদন করা হয়েছে, কিন্তু অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বাসস্ট্যান্ডে পর্যাপ্ত শেড ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে গাড়ির স্থায়িত্ব বাড়বে। এছাড়া সংকট নিরসনে নতুন বাস কেনার পরিকল্পনাও প্রশাসনের বিবেচনাধীন রয়েছে।
আপন দেশ/এসআর
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































