ছবি: আপন দেশ
দেশে আন্তঃসংযোগযোগ্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বাংলা কিউআর ব্যবস্থায় নতুন সুবিধা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে।
একই সঙ্গে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ কমাতে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) ও অন্যান্য চার্জে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ দেশের সব শ্রেণির মানুষের জন্য নিরাপদ, সহজ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর চালু করেছে। এটি দেশের একক ইন্টারঅপারেবল কিউআর পেমেন্ট স্টান্ডার্ড হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।
আরও পড়ুন <> টানা তিন দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম
লেনদেনেও দ্রুত প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। জুন ২০২৬ সালে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হতো, যার আর্থিক পরিমাণ ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি।
বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ গড়ে ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৯০ দিনের ব্যবধানে দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা গড়ে ৩ দশমিক ৫ গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় ৫ গুণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলা কিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সম্প্রসারণে ১ জুলাই থেকে সব ধরনের Proprietary QR-এর পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি লেনদেনের পারফরম্যান্স, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণ—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
এর মধ্যে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক পেমেন্টের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে মার্চেন্টের হিসাবে জমা হবে। একই তারিখ থেকে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অ্যাকুয়ারার (ব্যবসায়িক) প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন ১ শতাংশ এমডিআর প্রত্যাহার এবং ইসুয়ার (গ্রাহক) প্রতিষ্ঠানের আইআরএফ চার্জ শূন্য করা হয়েছে। এতে মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর ব্যবহারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ ছাড়া মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পন্ন ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের প্রতিটি বাংলা কিউআর লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুইং প্রতিষ্ঠানকে শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রণোদনা দেয়া হবে।
নভেম্বর থেকে কিউআরে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেন : আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআরভিত্তিক ব্যাক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেন চালু করা হবে।
এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআরের ছবি আপলোড করে আন্তঃসংযোগযোগ্য অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে বাংলা কিউআর লেনদেন ব্যর্থ হলে দ্রুততম সময়ে অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এ ছাড়া লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে। কোনো পক্ষের অভিযোগ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৬২৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া এসব উদ্যোগের ফলে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো মার্চেন্টদের জন্য বিনা বা স্বল্প খরচে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা দেয়ার সুযোগ পাবে।
ইতোমধ্যে বাংলা কিউআর লেনদেনের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে; সেপ্টেম্বরের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে বাসসও দৈনিক প্রায় ১২০ কোটি টাকার লেনদেনের কথা জানিয়েছিল।
আপন দেশ/কেএম/এমটিআই
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।





































