Apan Desh | আপন দেশ

গ্রাহকের বকেয়া দাবি পরিশোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, আপন দেশ 

প্রকাশিত: ১৭:১০, ১৬ জুলাই ২০২৬

গ্রাহকের বকেয়া দাবি পরিশোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে: আইডিআরএ চেয়ারম্যান

মীর নাদিয়া নিভিন, আপন দেশ

বিমা খাতে জমে থাকা গ্রাহকের বকেয়া দাবি (পলিসি ক্লেইম) পরিশোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন। 

এসময় তিনি বিমা খাত নিয়ে তার পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।  

দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মতিঝিলের আইডিআরএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিমা খাত সংস্কারে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তুলে ধরেন তিনি।

দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি আদায়, কমিশন বাণিজ্য বন্ধ, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি চালু, ইউনিক (স্বতন্ত্র) পলিসি আইডি কার্যকর, দুর্বল বিমা কোম্পানির সম্পদ বিক্রি করে পর্যায়ক্রমে দাবি নিষ্পত্তি ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার মত বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিবেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নাদিয়া নিভিন বলেন, যে কোম্পানি যত দুর্বল তাদের পরিচালন ব্যয় তত বেশি। যেসব কোম্পানি লো ফাংশনিং তাদের কস্ট বেশি। এটার একটা সুরাহা করতে হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিমা খাতে এখন সবচেয়ে বড় সংকট গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হবে উল্লেখ করে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রথম কাজ হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া দাবি পরিশোধ শুরু করা। দাবি পরিশোধ শুরু হলে ধীরে ধীরে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে। তখন পুরো খাতকে স্থিতিশীল করা সহজ হবে। 

আরও পড়ুন<<>>ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে অনিয়ম, আইডিআরএ’কে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ

৮২ কোম্পানির সাত হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করা হয়নি তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৭টি কোম্পানির কাছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা গ্রাহকদের বকেয়া আছে। অতিদ্রুত এসব দাবি আদায়ে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আইডিআরএ। প্রথম পর্যায়ে ৭ কোম্পানির কাছে বকেয়া থাকা সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা পরিশোধে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নাদিয়া নিভিন বলেন, কোম্পানির জমি বিক্রি, এফডিআর ভাঙা হবে, কিছু বিনিয়োগ আছে তা তুলে আনা ও ট্রেজারি বন্ডে থাকা অর্থ তুলে এসব অর্থ পরিশোধ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে প্রয়োজনে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

তার মতে, এসব কোম্পানির জমি, ট্রেজারি বন্ড, বিনিয়োগ ও অন্যান্য সম্পদ ধাপে ধাপে বিক্রি করে অর্থ একটি পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। প্রতিটি কোম্পানির জন্য আলাদা হিসাব থাকবে এবং সেখানে নিরীক্ষক (অডিটর) যুক্ত থাকবেন।
পরে ‘ফার্স্ট ইন, ফার্স্ট আউট (এফআইএফও)’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ আগে যাদের দাবি জমা পড়েছে, তাদের আগে পরিশোধ করা হবে।

বিমা খাতে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার প্রবণতা এখনো বন্ধ হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বেতনের আড়ালে বা বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে কমিশন দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা দেখছি, আমরা কিছু কিছু বিষয় প্রমাণ করতে পারছি। যেটা প্রমাণ করতে পারবো, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

গ্রাহক সুরক্ষায় ‘ইউনিক পলিসি হোল্ডার আইডি’ চালু করার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে আইডিআরএ। এজন্য গ্রাহকের মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হবে।

নিদিয়া নিভিন বলেন, একটি বৈধ বিমা পলিসির বিপরীতে গ্রাহকের মোবাইল নম্বরে ইউনিক আইডি চলে আসবে। ভবিষ্যতে কোনো গ্রাহক যদি এ আইডি না পান, তাহলে তিনি যেন ওই পলিসিতে প্রিমিয়াম না দেন, এ বিষয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমা খাতের অনেক প্রধান নির্বাহীর সনদ জাল। এসব জালিয়াতির ঘটনাগুলো আইডিআরএর নজরে রয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিচালকদের অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার মত ঘটনাগুলো প্রমাণ হওয়ার পর আইডিআরএ জরিমানা আদায় করে। সেটি কোম্পানি পরিশোধ করে।

জরিমাণাকৃত অর্থ ব্যক্তির পকেট থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে কি না প্রশ্নে আইডিআরএ বলেন, বিদ্যামান আইনে এটি করার সুযোগ নেই। আমরা পর্যালোচনা করছি। কিভাবে নীতিগতভাবে সমাধান করা যায়।

আপন দেশ/এসআর

মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

Advertisement

জনপ্রিয়