ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ মাঠে গড়ানোর আর বেশি দিন বাকি নেই। এর মধ্যে ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে একটি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র।
আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি পরম মমতায় গোসল করাচ্ছেন ফুটবলের নতুন বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে। যখন ইয়ামাল ছিলেন কেবলই এক দুগ্ধপোষ্য শিশু।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর এ যুগে অনেকেই শুরুতে ছবিটিকে ভুয়া বা এআই-নির্মিত বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দিয়ে ইউনিসেফ নিশ্চিত করেছে যে, এ ছবি কোনো কল্পনা বা প্রযুক্তির কারসাজি নয় বরং শতভাগ বাস্তব।
প্রায় ১৮ বছর আগে ইউনিসেফের একটি দাতব্য তহবিলের ক্যালেন্ডার তৈরির জন্য এ বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল।
বিশ্ব আসরের ফাইনালের ঠিক আগমুহূর্তে ইউনিসেফ নিজেই সে স্মৃতি রোমন্থন করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০০৭ সালের সে দিনটিতে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে মা শিলার কোলে চড়ে এসেছিল ছোট্ট শিশু লামিন ইয়ামাল। আর সেখানে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন তৎকালীন উদীয়মান ২০ বছর বয়সী তরুণ লিওনেল মেসি।
আজ প্রায় দুই দশক পর মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন দুজনেই বিশ্বকে মোহিত করছেন, তেমনই মাঠের বাইরেও ইউনিসেফের গুডউইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে বিশ্বজুড়ে শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন মেসি ও ইয়ামাল।
মজার ব্যাপার হলো, স্প্যানিশ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল নিজেই দীর্ঘদিন ধরে এ ছবির অস্তিত্বের কথা জানতেন না। পরবর্তীতে তার বাবা ছবিটির কথা জানালে তিনি রীতিমতো অবাক হন।
মেসির সঙ্গে এ মেলবন্ধন এবং প্রতিনিয়ত চলতে থাকা তুলনা নিয়ে ইয়ামাল জানান, ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের সঙ্গে তুলনায় কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে এ তুলনা অনেক সময় বাড়তি চাপও তৈরি করে।
লিওনেল মেসি এ নির্দিষ্ট ফটোশুট নিয়ে প্রকাশ্য কোনো মন্তব্য না করলেও বর্তমান ফুটবলের এ তরুণ তুর্কিকে প্রশংসায় ভাসাতে কার্পণ্য করেননি।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইয়ামালের খেলা তাকে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন : বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ‘বিশেষ আংটি’ দেবে ফিফা
এবার ভাগ্যচক্র এ দুই তারকাকে আবারো মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তবে এবার আর কোনো দাতব্য ক্যালেন্ডারের ছবি তোলার জন্য নয়, বরং বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ মুকুট জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে একে-অপরের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন এ দুই প্রজন্মের জাদুকর।
আপন দেশ/এনএম
মন্তব্য করুন # খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, আপন দেশ ডটকম- এর দায়ভার নেবে না।




































